বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো বাহিনীটি। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত হওয়া ১০৭ জন কর্মকর্তার বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) প্রদান শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে এই পদক গ্রহণের কথা থাকলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ঠিক আগে আগে এমন সিদ্ধান্ত বাহিনীর অভ্যন্তরে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, স্থগিত হওয়া এই তালিকায় এমন অনেক কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল যারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুলিশের সংস্কার যখন জনদাবিতে পরিণত হয়েছে, তখন বিতর্কিত কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় পদক প্রদানের বিষয়টি নিয়ে খোদ পুলিশ বাহিনীর ভেতরেই অসন্তোষ দানা বাঁধে।
অভিযোগ উঠেছে, মেধা ও সাহসিকতার চেয়ে লবিং এবং রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দিয়ে প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। তালিকায় এমন কয়েকজন কর্মকর্তার নাম ছিল, যাদের বিরুদ্ধে গত ১৫ বছরে বিরোধী মত দমনে অতি-উৎসাহী ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে।
পেশাদার কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে 'সুবিধাভোগী'দের তালিকায় স্থান দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি রফিকুল ইসলাম পদক স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই তালিকা পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মনে করা হচ্ছে, পুলিশকে রাজনীতিকরণমুক্ত করার যে অঙ্গীকার বর্তমান সরকার করেছে, এই স্থগিতাদেশ তারই একটি প্রতিফলন হতে পারে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এখন প্রতিটি নামের বিপরীতে গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং গত কয়েক বছরের কার্যবিবরণী পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে। প্রকৃত সাহসিকতা এবং জনসেবামূলক কাজের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতেই এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।