জিডিপির পাঁচ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রতি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী, কার্যকর ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) সম্মেলন-২০২৬’-এ তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি সুস্থ জাতি গড়ার যে স্বপ্ন আমরা দেখি, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আপনারাই মূল কারিগর। আমরা সবাই মিলে এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যা হবে সবার জন্য সহজলভ্য, কার্যকর এবং মানবিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা একটি জবাবদিহিমূলক, টেকসই ও জনগণকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। আপনাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকার কর্মস্থলকে একটি মডেল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত করবেন।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি যে ধারণাগুলো উপস্থাপন করেছেন তা স্বাস্থ্য খাত নিয়ে সরকারের ইশতেহার, পরিকল্পনা ও সামগ্রিক রূপকল্পেরই প্রতিফলন। সরকার একা সব অর্জন করতে পারে না, এর জন্য স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, সরকার ও জনগণকে সমর্থন করুন যাতে তারা অন্তত মৌলিক স্বাস্থ্যসেবাটুকু কোনো অসুবিধা ছাড়াই পেতে পারে।’
স্বাস্থ্যকর্মীদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সামগ্রিক ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি জানান, সরকার এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে, যাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই হবে নারী। জনস্বাস্থ্য সেবা জোরদার করতে এবং দেশজুড়ে নাগরিকদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে তিনি সব স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের ‘ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস’ (এনএইচএস)-এর উদাহরণ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এনএইচএস এমন একটি দেশে প্রায় ৭৫ বছর ধরে সেবা দিচ্ছে যা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম জনসংখ্যার দেশ। তারপরেও যুক্তরাজ্য সরকারকে প্রায়ই এই ব্যবস্থা পরিচালনা করতে এবং সবার জন্য সেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হয়।
এই তুলনা টেনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ থাকাটাই স্বাভাবিক।’ তিনি স্বীকার করেন যে, তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকরা সেবা দিতে গিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরায় প্রধানমন্ত্রী এটিকে একটি গঠনমূলক এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে তিনি চিকিৎসকদের মনে করিয়ে দেন যে, তারা সবাই একই দেশ ও সমাজের অংশ ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সম্পর্কে তারা অবগত।
তারেক রহমান বলেন, ‘রোগ নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম, এই নীতি অনুসরণ করে স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।’ স্বাস্থ্যকর্মীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেরও অঙ্গীকার করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত ও জনবল সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে ও প্রযুক্তি-ভিত্তিক সেবার মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আধুনিকায়ন করা হবে।’ তিনি দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন এবং স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।