জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলের সাউন্ড সিস্টেম (এসআইএস) স্থাপন ও সংস্কারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ‘কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড’-এর সিইও জাহিদুর রহিম জোয়ারদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক প্রবীর দাসের নেতৃত্বে একটি দল বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।
দুদকের অভিযোগ, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় সংসদে স্থাপিত সাউন্ড সিস্টেমে বড় ধরনের অনিয়ম হয়। পরবর্তীকালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংস্কার কাজেও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় গত জানুয়ারিতে অনুসন্ধানে নামে দুদক।
অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্তের যোগসাজশে প্রায় চার কোটি টাকার সংস্কার কাজ পায় একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান। তবে পর্দার আড়ালে মূল কাজটি করে জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের প্রতিষ্ঠান ‘কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড’। জাহিদুর রহিম সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের ভায়রা এবং সাবেক হুইপ নূরে আলম চৌধুরী লিটনের ঘনিষ্ঠ বলে জানায় দুদক। ওই প্রতিষ্ঠানটিই ২০১৮ সালে সংসদে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের কাজ করেছিল। তার বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে দুদক।
দুদক আরও জানিয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শুধু প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মই নয়, বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগও রয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বলছেন, প্রকল্প অনুমোদন, বাস্তবায়ন ও তদারকির পুরো প্রক্রিয়াই খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র সামনে আনা যায়।