দুর্বল অর্থনীতি, ভঙ্গুর শাসন কাঠামো ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে নতুন সরকার, এ কথা স্বীকার করে এসব খাতেই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনজীবনে স্থিতিশীলতা ফেরাতে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি ও দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি অর্থনীতি নিয়ে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে মানুষের জীবনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।’
দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যয়ে নেমে এসেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও কিছুটা শৃঙ্খলা ফেরেনি দুঃখজনকভাবে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী ও কর্মমুখী করতেই হবে।’
নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেও সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে বিভিন্ন খাতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও সরকার তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করছে। আইএমএফের চাপ থাকা সত্ত্বেও আমরা জ্বালানির দাম বাড়াইনি। জনগণের স্বার্থে সরকার ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে।’
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন দেশে বিভিন্ন আন্দোলনে যারা আহত ও শহীদ হয়েছেন সকলকে স্মরণ করেন ও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি হীন দলীয় স্বার্থে আমাদের জাতীয় নেতাদের ভূমিকাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে কার্পণ্য করি তাহলে ভবিষ্যতের ইতিহাস আমাদেরকেও ক্ষমা করবে না। আমি বিশ্বাস করি ঐতিহাসিক সত্য মেনে নিতে দ্বিধাচিত্তে থাকা হীনমন্যতার পরিচয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুথিগত পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তন এখন বেশি জরুরি। বিএনপি সরকার যতবার সুযোগ পেয়েছে ততবারই চেষ্টা করেছে এর প্রমাণ দিতে।’
এর আগে অনুষ্ঠানে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এবার মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
বক্তব্যে তারেক রহমান রাজনৈতিক বিভাজনের সমালোচনা করে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জাতীয় ঐক্যকে শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও অযথা বিতর্ক পরিহার করে একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি জনগণের সামনে দেওয়া রাষ্ট্র মেরামতের প্রতিশ্রুতি ও ‘জুলাই সনদ’ অক্ষরে অক্ষরে পালনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।