ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) উঁচু দেয়াল আর কড়া পাহারার ভেতরেও আজ লেগেছে ঈদের হাওয়া। পরিবারের বাইরে থাকলেও ৯ হাজার ২৫০ জন বন্দির জন্য ঈদ উদযাপনকে আনন্দময় করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মাসুদ হাসান জুয়েল জানান, এবার বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। কারা অভ্যন্তরের ১৫টি ভবনের সব বন্দির জন্যই আজ ছিল বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা।
তিনি জানান, সকালে দিন শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পায়েশ ও মুড়ি দিয়ে। দুপুরের মধ্যাহ্নভোজে ছিল খাসির পোলাও, গরুর মাংস ও রোস্ট। যারা গরুর মাংস খান না, তাদের জন্য ছিল মুরগির মাংসের ব্যবস্থা। সঙ্গে ছিল চমচম, সালাদ এবং পান-সুপারি। এবং রাতের মেনুতে থাকছে সাদা ভাত, মুড়িঘণ্ট, মাছ ভাজা ও আলুর দম।
আজ অনেক স্বজনরা বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসলেও তা ভেতরে নিতে দেওয়া হয়নি। কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের দিন কারাগার থেকেই সর্বোত্তম খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে প্রিয়জনদের জন্য খুশির খবর হলো—আগামীকাল রোববার (২২ মার্চ) বন্দিদের জন্য বাড়ি থেকে আনা পছন্দের খাবার খাওয়ানোর বিশেষ সুযোগ থাকছে।
আজ (শনিবার) সকাল ৮টায় কারাগারের বিশাল মাঠে সাধারণ বন্দিদের জন্য ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিশেষ বন্দিদের (ভিআইপি) জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনায় নামাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
কেবল খাবার নয়, বন্দিদের মানসিক প্রশান্তির জন্য কারা অভ্যন্তরে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। সেখানে বন্দিরা নিজেরাই নাচ ও গানে মেতে উঠেছেন। এছাড়া আগামীকাল ও পরশুদিন কারাগারের ভেতরে বন্দিদের মধ্যে ফুটবল ও ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা তাদের একঘেয়েমি কাটাতে সাহায্য করবে।
মাসুদ হাসান জুয়েল আরও জানান, ঈদ উপলক্ষে আজ থেকে আগামী তিন দিন স্বজনদের জন্য কারাগার উন্মুক্ত থাকবে। আজ প্রত্যেক বন্দি তার পরিবারের সঙ্গে ৫ মিনিটের জন্য সরাসরি সাক্ষাৎ ও কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া আজ থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন স্বজনরা কোনো প্রকার খরচ ছাড়াই বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।