১৭ বছর পর দেশে ঈদুল ফিতরের জামাতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জানা গেছে, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেবেন তিনি। এরই মধ্যে ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠেয় এ জামাতে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নেবেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ‘ঈদের প্রধান জামাতের আয়োজনকে ঘিরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে ও পবিত্রতার সঙ্গে নামাজ আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
আবদুস সালাম আরও জানান জানান, প্রায় ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার আয়তনের ঈদগাহ ময়দানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহে মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায়ের জন্য পুরো এলাকা জুড়ে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত ফ্যান, লাইট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) স্থাপন করা হয়েছে।
এরই মধ্যে বৈরী আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বৃষ্টি নিরোধক সামিয়ানা টানানো হয়েছে এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে ঈদের প্রধান জামাত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।
মুসল্লিদের অজুর জন্য প্যান্ডেলের ভেতরে একসঙ্গে প্রায় ১৪০ জনের অজুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবেশপথ ও ঈদগাহ প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত খাবার পানির ব্যবস্থা থাকবে। জরুরি প্রয়োজনে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা ও ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থাও রয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে প্রশাসক জানান, ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশের জন্য ভিআইপি ও সাধারণ মুসল্লিদের জন্য মোট চারটি ফটক ও বের হওয়ার জন্য সাতটি ফটক রাখা হয়েছে। পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ প্রস্তুত থাকবে।
প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ‘প্রধান জামাতে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন।’
তবে নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের কোনো ধরনের ধারালো সরঞ্জাম বা দাহ্য পদার্থ সঙ্গে না আনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এ সময় নগরবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে প্রধান জামাতে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি।