ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে আজ মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় বন্ধ থাকছে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মোটরসাইকেল সার্ভিসও।
এ ছাড়া পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক ও লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে আগামীকাল বুধবার মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন, ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা এবং সংবাদমাধ্যমকর্মী ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের বহনকারী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদেশগামী যাত্রী বা বিদেশ ফেরত আত্মীয়-স্বজনদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিমানবন্দরগামী বা বিমানবন্দর থেকে আসা যানবাহন চলাচলের সুযোগ থাকবে। তবে এ ক্ষেত্রে টিকেট বা অনুরূপ প্রমাণ প্রদর্শন করতে হবে।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সরকারি নির্দেশে আজ বন্ধ হয়ে গেছে শিল্প-কারখানা। বুধ ও বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শুক্র-শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। টানা পাঁচ দিনের এই ছুটিতে অনেকে ঢাকা ছাড়তে শুরু করায় আজ সকাল থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় লক্ষণীয় ছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। এ ছাড়া ভোট উপলক্ষে আগামীকাল ও পরদিন শপিংমল ও বড় দোকান বন্ধ থাকার ঘোষণায় অনেকে আজ সারাদিন জরুরি কেনাকাটা সেরে নেন।
বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান মাহমুদ সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানান, মূলত ব্যবসায়ী ও তাঁদের কর্মচারীরা যার যার এলাকায় গিয়ে যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী শুক্রবার দোকান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং শপিংমল খুলবে।
অবশ্য পাড়া-মহল্লার মুদি দোকান ও সবজি বাজারের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার মুদি দোকানি মিজানুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আমরা বড়জোর হাফ বেলা বন্ধ রাখতে পারি। সকালে ভোট দিয়ে এসে দোকান খুলব।’
তবে বুধবার মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় খুচরা বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।