আজ ঐশ্বর্যধারী ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। আজ পয়লা ফাল্গুন। বাংলা বছরের পরিক্রমায় সবশেষে আসে বসন্ত। বসন্ত মানেই পূর্ণতা। বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের কলরব। কচিপাতায় আলোর নাচনের মতোই বাঙালির মনেও লাগবে দোলা।
বিপুল তরঙ্গ প্রাণে আন্দোলিত হবে বাঙালি মন। বাঙালি জীবনে বসন্তের আগমন বার্তা নিয়ে আসে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। ১৯৫২ সালের এ বসন্তেই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল। বসন্তেই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিল। তাই কেবল প্রকৃতি আর মনে নয়, বাঙালির জাতীয় ইতিহাসেও বসন্ত আসে এক বিশেষ মাহাত্ম্য নিয়ে।
এদিকে আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে। রোমান খ্রিষ্টানরা বিশ্বাস করে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে তাদের ভালোবাসার দেবতা কিউপিড ‘প্রেমশর’ বাগিয়ে ঘুরে ফিরবে হৃদয় থেকে হৃদয়ে। অনুরাগতাড়িত পরান এফোঁড়-ওফোঁড় হবে দেবতার বাঁকা ইশারায়। আজ হৃদয় গহনে তারাপুঞ্জের মতো ফুটবে চণ্ডীদাসের সেই অনাদিকালের সুর :“দুঁহু তার দুঁহু কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া/ অর্ধতিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া/ সখি কেমনে বাঁধিব হিয়া…। ’’ এদিন উদযাপনকারীরা তাদের প্রিয়জনকে উপহার ও নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকেন।
দিনটি ঘিরে বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা নানা আয়োজনে ব্যস্ত। তবে সবাই এই দিনটিকে নিজের মতো করে পালনের চেষ্টা করবেন। আর দিনটিকে স্মরণীয় রাখতে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরতে বের হতে পারেন। কিনতে পারেন এক গুচ্ছ গোলাপ কিংবা রজনীগন্ধা। সঙ্গে দিতে পারেন পছন্দের চকলেট, কার্ড বা ছোট কোনো উপহার। একসঙ্গে সময় কাটানো, প্রিয় রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়া কিংবা একটি চিঠির মাধ্যমে মনের অনুভূতি প্রকাশ করেও দিনটিকে আরও বিশেষ করে তোলা যায়।
তবে অনেকের মতে আলাদা করে ভালোবাসা দিবস পালনের কোনো প্রয়োজন নেই।
মূলত ২৬৯ সালে ইতালির রোমে খ্রিষ্টান ধর্মযাজক ভ্যালেন্টাইন হত্যা দিবসকে ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’ নামে পালন করা হচ্ছে। ইসলাম ধর্মমতে এই হারাম দিবসকে মানুষ পালন করছে জেনে-না জেনে। অনেকে হুজুগে পড়ে। ‘ভালোবাসা দিবস’ নিয়ে যতগুলো কল্পগল্প প্রচলিত আছে তার সবগুলোই খ্রিষ্টধর্ম প্রচারক ভ্যলেন্টাইনকে ঘিরে। মূলত দিবসটি ছিল প্রাচীন ইউরোপীয় গ্রিক-রোমান পৌত্তলিকদের একটি ধর্মীয় দিবস। রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস-এর সময়ে ধর্মযাজক ভ্যালেনটাইন তাদের দেব-দেবীর পূজা করতে অস্বীকার করায় তাকে কারারুদ্ধ করে পরে প্রাণদণ্ড কার্যকর করা হয়। খ্রিষ্টীয় ইতিহাস বলছে, শিরশ্ছেদের শিকার হওয়ার আগে ধর্মযাজক ভ্যালেন্টাইন কারাগারে বসে প্রেমাসক্ত যুবক-যুবতিদের প্রণয়মন্ত্রে দীক্ষা দিতেন। আবার কোথাও বলা হচ্ছে—জেলারের অন্ধ কন্যার প্রণয়ে পাগলপ্রায় ছিলেন ভ্যালেন্টাইন। তিনি মৃত্যুদণ্ডের আগে প্রেয়সীকে লিখেছিলেন ‘ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন।’ এ কাহিনীর বয়স সতেরো শত সাঁইত্রিশ বছর হলেও ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’ নামে এই দিবস পালনের সূচনা ঘটেছে হাল আমলে। তবে বাস্তবতা হলো, ভালোবাসা কোনো বিশেষ দিনের জন্য নয়। সারা বছর, সারা মাস, সারা দিন, সারাটি জীবন ভালোবাসার।