আমরা বরাবরই শুনি, সময়ের সঙ্গে মানুষের রুচি, প্রয়োজন আর মানসিকতার বদল ঘটে। এরই এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে ফ্যাশন দুনিয়ায় নাম লিখিয়েছে ক্রকস। ‘পৃথিবীর সবচেয়ে কুৎসিত জুতা’ হিসেবে পরিচিত এই ফুটওয়্যার আজ আর শুধু ব্যবহারিক পণ্য নয় বরং আধুনিক ফ্যাশনের এক ভিন্ন ভাষা। খুব কম পণ্যের ভাগ্যেই এমন উত্থান জোটে।
দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাশন মানে ছিল বাহ্যিক সৌন্দর্য। আরামের বিষয়টি ছিল দ্বিতীয় সারিতে। কিন্তু দিন বদলেছে, ফ্যাশনের ভাষায়ও এসেছে ভিন্ন রুপ। প্রচলিত ধারণা ভেঙে নতুন জেনারেশনের কাছে এখন আরামই নতুন ফ্যাশন। পোশাকের পর জুতায়ও তাই একই আরাম খুঁজছে জেন-জি।
দীর্ঘসময় পর স্বস্তি দেওয়ার ক্ষমতাই যেন তাই ক্রকসকে ব্যবহারিক দিক থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে রেখেছে। সেই সঙ্গে আধুনিক জীবনে যখনই ভ্রমণ বা অনানুষ্ঠানিক চলাফেরা বেড়েছে তখনই এই জুতার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ক্রকসের জনপ্রিয়তার বড় একটি কারণ ব্যক্তিগত পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া। একমুখী ফ্যাশন থেকে বের হয়ে এ জুতার ভিন্ন ভিন্ন নকশা সহজেই নজর কাড়ে। ব্যক্তিত্বকে সামনে রেখে নিজের পছন্দমতো আরামের ক্রকস বেছে নেওয়া যায় খুব সহজেই।
ফ্যাশন বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা মূলত ‘মাস ফ্যাশন’ থেকে ‘পারসোনাল স্টাইল’-এর দিকে যাত্রার ইঙ্গিত দেয়। মানুষ এখন নিজেই ট্রেন্ড তৈরি করতে চায়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্রকস
বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জীবনযাত্রার সঙ্গে ক্রকসের ব্যবহারিক সুবিধা বেশ মানানসই। গরম, বৃষ্টি, কাদা কিংবা ধুলা—সব পরিস্থিতিতে এই জুতা কার্যকর। দামও তুলনামূলকভাবে সাধারণ মানুষের নাগালে।
শপিং মল, অনলাইন শপ কিংবা রাস্তার পাশের দোকান—সব জায়গায় সহজলভ্য হওয়ায় এর বিস্তৃতিও দ্রুত ঘটেছে। সেই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে ইনফ্লুয়েন্সার আর ফ্যাশনপ্রেমী মানুষের মাধ্যমে এই জুতার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক, সব বয়সের মানুষের জন্য আলাদা ডিজাইন ও মাপ থাকাও এর জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ।
ক্রকসের যাত্রা ফ্যাশন দুনিয়ায় ভিন্ন মাত্রা এনে দিয়েছে। ফ্যাশন এখন আর শুধু সৌন্দর্যের প্রশ্ন নয় বরং স্বাচ্ছন্দ্য, ব্যক্তিত্ব ও ব্যবহারিক প্রয়োজনের সমন্বয়।
বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্স ও অনলাইন শপ থেকে এ জুতা কিনলে দাম পড়বে ৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকার মতো। আবার বিদেশি পণ্যের দোকান থেকে কিনলে গুনতে হতে পারে প্রায় তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে ৪০০-৫০০ টাকার মধ্যে মিলবে রাস্তার পাশের দোকান বা ভ্যানগুলোয়। এ ছাড়া শিশুদের জন্যও পাওয়া যায় আরামদায়ক এই জুতা। দাম পড়বে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।