ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর মৃত্যুর প্ররোচনা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী ইকবাল হোসেন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এ সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন না। তাকে সকালে সিএমএম হাজতখানায় এনে রাখা হলেও রিমান্ডের আবেদন না থাকায় আদালতে তোলা হয়নি। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আরিফুল মোহাম্মদ জামিনের আবেদন করে বলেন, সুদীপ চক্রবর্তী একজন ভালো শিক্ষক ও ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করেন।
আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে সুদীপ চক্রবর্তীর জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ও আসামির নাম-ঠিকানা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেল হাজতে আটক রাখা প্রয়োজন। আবেদনে আরও বলা হয়, শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে ভুক্তভোগীর সঙ্গে আসামির ভিডিও কলে কথা হয়। বাদীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ধারণা করা হচ্ছে, আসামির প্ররোচনাতেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
তদন্তের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করার প্রয়োজন হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোরে উত্তর বাড্ডার একটি বাসা থেকে মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় মামলা করেন। মামলার পর একই দিন বিকেলে রাজধানীর উদয় ম্যানসন এলাকা থেকে সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।