দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে সোমবার (১ জুন) পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। অন্যদিকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সিটি করপোরেশনের বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৩৫ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, ঢাকায় ১৫ জন খুলনায়
২১ জন, ময়মনসিংহে আটজন, রাজশাহীতে পাঁচজন ও সিলেট বিভাগে একজন রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে একজন ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১২ জন ভর্তি হয়েছে।
এই সময়ে ৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে তিন হাজার ১৩৮ জন।
চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে তিন হাজার ৩০৭ জন। এর মধ্যে ৬২.৬ শতাংশ পুরুষ ও ৩৭.৪ শতাংশ নারী। আর এই বছর ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।
এদিকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে সোমবার ডেঙ্গু মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখনো প্রতিদিন দুই-একজন করে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে। যেহেতু এই সময়ে ডেঙ্গু দেখা দেয়, এ জন্য কালক্ষেপণ না করে তা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গু কর্ণার করা হচ্ছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ফিল্ড হাসপাতাল রেডি আছে। প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আরও ফিল্ড হাসপাতাল করা হবে।’
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এ সময় স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. এএইচএম মইনুল আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসা পরিকল্পনাসহ বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেবে সোসাইটি অব মেডিসিন। ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থাও সহায়তা করছে। কাল থেকেই কাজ শুরু হচ্ছে। সারাদেশে ঢাকার বাইরে সাতটি বিভাগে ও জেলাগুলোতে চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। রিএজেন্ট, টেস্টিং কীটস, ফ্লুইড স্যালাইনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ কিছু সংগ্রহে আছে। চাহিদা অনুযায়ী আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ডেঙ্গুর মূল উৎপত্তি নিয়ে পদক্ষেপ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে দুই মাস আগে থেকেই কাজ শুরু করেছি।’
এ ছাড়া সভায় ডেঙ্গু বিষয়ক একটি এ্যাপ চালু করার ব্যাপারে আলোচনা করা হয় এবং ডেঙ্গু বিষয়ক গবেষণা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।