দেশে শিশুদেরকে পর্যাপ্ত পরিমাণ হামের টিকা দেওয়ায় আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে হামের প্রকোপ কমে যাওয়ার আশা করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাকরা। শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে বক্ষব্যাধি বিষয়ক চিকিৎসকদের সংগঠন লাং ফাউন্ডেশন ও চেস্ট এন্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চিকিৎসকরা বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে এবং আমরা প্রথমে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি, একই সাথে শোক সন্তপ্ত মা-বাবার প্রতি সমাবেদনা জানাচ্ছি। এই অপূরণীয় ক্ষতি আমাদের জাতীয় জীবনে দুঃখ বেদনার কারণ হয়েছে।
তারা বলেন, হামের একটি প্রধান কমপ্লিকেশন হচ্ছে নিউমোনিয়া এবং নিউমোনিয়াই হামের মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ। ভাইরাল এবং ব্যাকটেরিয়ার দুই ধরনের নিমোনিয়ায় শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সেজন্য এই কমপ্লিকেশন মোকাবেলায় আমাদের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ এবং শিশু বিশেষজ্ঞগণ এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে আমরা সরকারকে চারটি প্রস্তাব দিয়েছি।
চিকিৎসকরা জানান, প্রুস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হামের টিকাদান কর্মসূচিকে অব্যাহত রাখা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ফিভার কর্নার স্থাপন করে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
অসুস্থ শিশুদের বিষয়ে অভিভাবকদেরকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে জানিয়ে চিকিৎসকরা বলেন, শিশু অসুস্থ হওয়ার সাথে সাথেই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। ঝাড়ফুক বা লোকাল মেডিসিনের দোকান থেকে ওষুধ খাইয়ে রোগ বাড়ানো যাবে না।
তারা জানান, একটি অসুস্থ শিশুকে দ্রুততম সময় হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করা সম্ভব, কিন্তু দেরিতে আসলে অনেক সময় সে ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই অসুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে মোটেও সময় ক্ষেপণ করা যাবে না। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
চিকিৎসকরা বলেন, সফল টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে হামে আক্রান্তের হার অনেকখানি হ্রাস করা সম্ভব ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে গত দুই বছরে এই টিকাদান কর্মসূচিতে ছেদ পড়ায় এ বছর মার্চ মাস হতে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শিশু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর আবিদ হোসেন মোল্লা, পেডিয়াট্রিক পালমনোলজিস্ট এবং বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডা. রুহুল আমিন, চেস্ট এন্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডা. আনারুল আনাম কিবরিয়া, পেডিট্রিশিয়ান প্রফেসর ডা. নুরুল আমিন, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের জয়েন্ট সেক্রেটারি ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেনু, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রফেসর ডা. আসিফ মোস্তফা মাহমুদ ও চেস্ট এন্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ এর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. গোলাম সারোয়ার বিদ্যুত।