রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)-সহ চারটি সিটি কর্পোরেশপন এলাকায় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা দক্ষিণের নগর ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে পারলে আমরা এই ঝুঁকিপূর্ণ রোগ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবো।’
মন্ত্রী জানান, গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ থেকে ঢাকা দক্ষিণসহ চারটি সিটি কর্পোরেশন—ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশালে একযোগে এই কর্মসূচি চালু হলো। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এটি সম্প্রসারিত হবে।
হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সামনে ডেঙ্গুর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সামনে ডেঙ্গুর একটি ধাক্কা আসতে পারে, তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’ মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের সঠিক মাত্রা ও মান নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘হামের বিস্তার রোধে আইসোলেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দেশের হাসপাতালগুলোতে সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ তিনি টিকাদান কর্মসূচিকে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া এটি সফল করা সম্ভব নয়।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি এবং ইউনিসেফের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মো আবদুস সালাম বলেন, ‘হামের বর্তমান পরিস্থিতি হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি, এটি দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল। তবে এখন প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।’
ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, এ ক্যাম্পেইনের আওতায় এই সিটি কর্পোরেশনে মোট চার লাখ দুই হাজার ৪৫৬ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য ৫৪০টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯০টি স্থায়ী ও ৪৫০টি অস্থায়ী।
ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশু এই কর্মসূচির আওতায় এমআর (মিজলস-রুবেলা) টিকা পাবে। প্রতিদিন (সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে আগামী ১১ মে পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, নগরবাসীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। উদ্বোধন শেষে সংশ্লিষ্টরা খিলগাঁও নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও অংশ নেন।