ছিলোটি লোক উৎসব
ধামাইল নৃত্য, বিয়ের গীত, পুঁথি ও লোকগানসহ নানা উপাদানে সমৃদ্ধ সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতিকে তুলে ধরতে আয়োজন করা হয়েছে ‘ছিলোটি লোক উৎসব’। হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসব দিনভর জমে ওঠে নগরের ঐতিহাসিক ক্বীনব্রিজ চত্বরে।
সুফি, ভাবুক ও বাউল সাধকদের সৃষ্টিকর্মকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ উৎসবে শিল্পীদের পরিবেশনায় উৎসব অঙ্গন পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
হাওর, বাওর, পাহাড়-টিলায় ঘেরা বৈচিত্র্যময় জনপদ সিলেট জন্ম দিয়েছে হাছন রাজা, রাধারমণ ও বাউল আব্দুল করিমের মতো খ্যাতিমান শিল্পস্রষ্টাদের। তবে কালের বিবর্তন ও আধুনিক সংস্কৃতির প্রভাবে লোকসংস্কৃতির চর্চা ক্রমেই হারিয়ে যেতে বসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রেক্ষাপটে নতুন প্রজন্মের কাছে শেকড়ের পরিচয় তুলে ধরতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। আলী আমজাদের ঘড়িঘর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে ধামাইল গান থেকে শুরু করে বিয়ের গীত সবকিছুতেই ফুটে ওঠে গ্রামবাংলার চিরচেনা জীবনচিত্র।
উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা জানান, লোকসংস্কৃতি ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন আরও বাড়ানো প্রয়োজন। হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের আহ্বায়ক ডা. জহির উদ্দিন অচিনপুরী বলেন, এ উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করতে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলম বলেন, লোকঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে শেকড়ের সংযোগ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এজন্য এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ।