মাঝেমধ্যেই কেউ না কেউ বিপদে পড়েন। কখনো রাস্তার মাঝে একদল মানুষের আক্রমণের শিকার হন, কখনো বা দুর্ঘটনায় পড়েন। অথচ চারপাশে বহু মানুষের সমাগম হলেও কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন না। এ বিষয়গুলো আশঙ্কার জন্ম দিলেও এর মধ্যে রয়েছে এক অদৃশ্য শক্তি।
অর্থাৎ, এমন পরিস্থিতিতে মানুষ ইচ্ছে করেই যে সাহায্য করে না, তা কিন্তু নয়। যেখানে যত বেশি মানুষ থাকে, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ তত কমে যায়। আমরা অবচেতনে ধরে নিই, ‘আমি সাহায্য না করলেও পাশের কেউ অবশ্যই করবে’। এই ভাবনাই মানুষকে নিষ্ক্রিয় করে তোলে।
এই মানসিক প্রবণতার নাম—বাইস্ট্যান্ডার ইফেক্ট। অর্থাৎ, কোনো জরুরি বা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে একজন ভুক্তভোগীর চারপাশে যত বেশি মানুষ থাকে, সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা তত কমে যায়।
পেছনের কারণ
এর পেছনে তিনটি বড় কারণ কাজ করে। প্রথমত—নির্দিষ্ট কারো কাছে দায়িত্ব না থাকা। অর্থাৎ সবাই ভাবে—অন্য কেউ হয়ত করবে। দ্বিতীয়ত—সামাজিক সংকেত। অন্যরা কিছু না করলে আমরা ধরে নিই, পরিস্থিতি খুব একটা গুরুতর নয়। তৃতীয়ত—ভুল করার ভয়। যদি পরিস্থিতি বুঝতে না পারি, তাহলে লজ্জায় পড়ে যাব।
এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীর জায়গায় কিন্তু থাকতে পারেন আপনিও।
তাহলে কীভাবে সাহায্য পেতে পারেন?
মনে রাখবেন—চুপ থাকলে সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। যতটা সম্ভব স্পষ্টভাবে সাহায্য চাইতে হবে। শুধু ‘কেউ সাহায্য করুন’ বললে অনেকেই ধরে নেয়, অন্য কেউ এগিয়ে আসবে। তার বদলে নির্দিষ্ট করে বলুন—‘এই লাল শার্ট পরা ভাই, আপনি ৯৯৯-এ ফোন করুন,’ অথবা ‘আপু, একটু পানি এনে দিন’। এতে দায়িত্ব একজনের ওপর পড়ে, আর বাইস্ট্যান্ডার ইফেক্ট ভেঙে যায়।
সম্ভব হলে জোরে জোরে এবং চোখে চোখ রেখে কথা বলুন, সাহায্য পাওয়ার ভাষা পরিষ্কার রাখুন। আশপাশে মানুষ থাকলেও ধরে নেবেন না যে, কেউ নিজে থেকেই এগিয়ে আসবে। প্রয়োজনে বারবার ডাকতে থাকুন, কারণ সাহায্য চাওয়াটা দুর্বলতা নয়, বরং বাঁচার কৌশল।