বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের আজকের এই পহেলা ফালগুনেই মারা যান তিনি। মৃত্যুর ১৪ বছর পরও সমান প্রাসঙ্গিক এই শক্তিমান অভিনেতা।
মঞ্চ নাটক দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করলেও পরে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে তিন দশক ধওে সাবলীল অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি।
হুমায়ুন ফরীদির অভিনয় জীবন শুরু হয় মঞ্চ নাটক দিয়ে। পরবর্তী সময় আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘নিখোঁজ সংবাদ’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশনে যাত্রা শুরু করেন। এরপর ‘সংশপ্তক’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘সাত আসমানের সিঁড়ি’, ‘একদিন হঠাৎ’, ‘শীতের পাখি’, ‘নীল আকাশের সন্ধানে’সহ অসংখ্য নাটকে তার অভিনয় দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। বিশেষ করে ‘সংশপ্তক’-এ তার অভিনীত কানকাটা রমজান চরিত্রটি আজও স্মরণীয়।
মঞ্চেও ছিল তার সমান দাপট। ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’, ‘ফণীমনসা’, ‘শকুন্তলা’, ‘কীর্তনখোলা’ ও ‘কেরামত মঙ্গল’-এর মতো নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি মঞ্চজগতেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে তানভীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’ দিয়ে। পরে শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘সন্ত্রাস’ ছবির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। ‘ব্যাচেলর’, ‘শ্যামলছায়া’, ‘জয়যাত্রা’, ‘একাত্তরের যীশু’, ‘মায়ের মর্যাদা’ ও ‘পালাবি কোথায়’-এর মতো চলচ্চিত্রে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়।
নায়ক কিংবা খলনায়ক— দুই ধরনের চরিত্রেই তিনি ছিলেন সমান স্বাচ্ছন্দ। ২০০৪ সালে ‘মাতৃত্ব’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ব্যক্তিজীবনে প্রথমে মিনুকে বিয়ে করেন তিনি, এ ঘরে জন্ম নেয় কন্যা দেবযানি। পরে বিয়ে করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফাকে। তবে ২০০৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।
ব্যক্তিজীবনে নানা চড়াই-উৎরাই থাকলেও কর্মের জন্য তিনি দর্শকের হৃদয়ে অমলিন।