বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজের আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। বহু আলোচিত সুকেশ চন্দ্রশেখর মানি লন্ডারিং মামলায় জ্যাকলিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির একটি আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রাথমিকভাবে এমন যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে যা থেকে মনে করা হচ্ছে যে, অভিনেত্রী অপরাধলব্ধ অর্থের সুবিধা ভোগ করেছিলেন।
গত ৩০ মে পাতিয়ালা হাউস কোর্টের বিচারক প্রশান্ত শর্মা সুকেশ চন্দ্রশেখরকে ঘিরে ২০০ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং ও তোলাবাজি মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন। সেই তালিকায় রয়েছেন জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজের নামও।
মামলার শুরু থেকেই জ্যাকলিন দাবি করে এসেছেন, তিনি প্রতারণার শিকার এবং সুকেশের অপরাধমূলক কর্মকাÐ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তবে আদালত সেই দাবির সঙ্গে একমত হয়নি। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে যা ইঙ্গিত দেয় যে সুকেশের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগের কথা জানার পরেও তিনি তার কাছ থেকে বিপুল মূল্যের উপহার গ্রহণ করেছিলেন।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সুকেশের কাছ থেকে প্রায় ৫.৭১ কোটি টাকার বিলাসবহুল উপহার পেয়েছিলেন জ্যাকলিন। এছাড়াও অভিযোগ, অভিনেত্রীর বোনের বিদেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১ লক্ষ ৭২ হাজার মার্কিন ডলার এবং তার ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ২৬ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার পাঠানো হয়েছিল। এই অর্থও অপরাধলব্ধ আয়ের অংশ বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।
আদালত আরও উল্লেখ করেছে, জ্যাকলিনের বাবা-মায়ের জন্য কেনা গাড়ি প্রসঙ্গেও তিনি জিজ্ঞাসাবাদের সময় তথ্য স্বীকার করেছিলেন। বিচারকের মতে, এই তথ্যগুলি ইঙ্গিত করে যে অপরাধলব্ধ অর্থের ব্যবহার গোপন করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল কি না, তা বিচারপর্বে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধ বিভিন্ন প্রতারণা এবং দুর্নীতির মামলার খবর জ্যাকলিনের কাছে পৌঁছেছিল। এমনকি তার ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে সংবাদ প্রতিবেদনও অভিনেত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তা সত্তে¡ও তিনি সুকেশের কাছ থেকে উপহার ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন বলে অভিযোগ।
তবে মামলার বিচার এখনও বাকি এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ আইনত নির্দোষ বলেই গণ্য হবেন। এখন নজর থাকবে আগামী দিনে আদালতে এই মামলার শুনানির দিকে।