জাল সনদের অভিযোগে কলেজ পর্যায়ের ৬৩ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। ওই শিক্ষকদের দেওয়া কারণ দর্শানোর জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাদের এমপিও বাতিল বা স্থগিত করার বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
মাউশির এক দপ্তরাদেশে জানানো হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তদন্তে জাল সনদের অভিযোগে ৬৩ জন কলেজ শিক্ষককে চিহ্নিত করা হয়। এরপর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর ১৮.১(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেন তাদের এমপিও বাতিল বা স্থগিত করা হবে না—এ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে কেউ জবাব দিলেও তা সন্তোষজনক বিবেচিত হয়নি, আবার কেউ কোনো জবাবই দেননি বলে জানানো হয়েছে। এ অবস্থায় অভিযোগগুলো অধিকতর যাচাইয়ের জন্য শুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দপ্তরাদেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত তারিখে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে নিজ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষসহ সকাল ১০টায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন)-এর কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে।
শুনানিতে অংশগ্রহণের সময় পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের শিক্ষাগত সনদ, নিয়োগসংক্রান্ত সব কাগজপত্রের অধ্যক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত দুই সেট ফটোকপি এবং মূল কাগজপত্র সঙ্গে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, কোনো অভিযুক্ত শিক্ষক যদি ইতোমধ্যে পদত্যাগ, অপসারণ, জাতীয়করণ, বরখাস্ত বা মৃত্যুবরণ করে থাকেন, তাহলে সে-সংক্রান্ত যথাযথ তথ্য-প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষকে শুনানিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
মাউশি জানিয়েছে, শুনানিতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।