শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুঁজিবাজার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ-সংক্রান্ত জ্ঞান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে (বিইউ) ‘পুঁজিবাজার পর্যালোচনা: আগামী প্রজন্মের বিনিয়োগকারীদের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরুমে বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটসের (বিএএসএম) আয়োজনে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি বিজনেস ক্লাবের (বিইউবিসি) সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মাহবুবুল হক। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান ড. মো. মুজাক্কিরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য দেন বিএএসএম-এর মহাপরিচালক কামরুল আনাম খান, ফ্যাকাল্টি গ্রেড-৩ নিপা সাহা এবং ফ্যাকাল্টি গ্রেড-৫ মো. সাদ্দাম হোসাইন খান।
কর্মশালায় বক্তারা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের কাঠামো, বিনিয়োগের মৌলিক ধারণা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আর্থিক সচেতনতা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য দায়িত্বশীল বিনিয়োগের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

বিশেষ এক সেশনে বিএএসএম-এর ফ্যাকাল্টি মো. সাদ্দাম হোসাইন খান পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ব্যবহারিক বিষয় তুলে ধরেন। তিনি ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও) ও লিস্টিং প্রক্রিয়ার ধাপগুলো ব্যাখ্যা করেন। পাশাপাশি বিনিয়োগের আগে তথ্য বিশ্লেষণ ও ঝুঁকি মূল্যায়নের কৌশল হিসেবে ‘থ্রি ফিল্টার থিওরি ফর ক্যালকুলেটিভ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট’ এবং শেয়ারবাজারে মূল্য প্রবণতা বিশ্লেষণের জন্য টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের বিভিন্ন বিষয়—চার্ট প্যাটার্ন, ট্রেন্ড অ্যানালাইসিস, সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল নিয়ে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেন। তার উপস্থাপনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি আর্থিক ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত জ্ঞান শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ ধরনের কর্মশালা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কর্মশালার আলোচিত বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে সঠিক উত্তরদাতাদের আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তারা প্রশ্নোত্তর পর্বে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়েরও সুযোগ পান।