চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আইন, গণমাধ্যম, শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক আইনের সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে এইচডব্লিউপিএল গভর্ন্যান্স ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে এই ফোরামের আয়োজন করে এইচডব্লিউপিএল-এর গ্লোবাল-৩ শাখা এবং ‘শান্তি বাংলাদেশ’।
ফোরামের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— ‘শান্তির আইন প্রণয়ন এবং নাগরিক সমাজের সহযোগিতায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বহুপাক্ষিক আলোচনা’, যা ডিপিসিডব্লিউ (Declaration of Peace and Cessation of War)-এর ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ থেকে নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। তারা শিক্ষা, গবেষণা এবং নাগরিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দেন।
ফোরামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ বলেন, ‘দায়িত্বশীল গণমাধ্যম সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি সমাজে শান্তির সংস্কৃতি গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।’
‘বাংলাদেশে টেকসই শান্তি নির্মাণ’ বিষয়ে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ বক্তব্যে বলেন, রাজনৈতিক মেরুকরণ, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং ডিজিটাল উগ্রবাদ মোকাবিলা করা এখন সময়ের দাবি। তরুণদের ‘টেকসই শান্তির স্থপতি’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল ফারুক ‘আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক আলোচনায় বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ), আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মতো প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।