ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় দ্রুত বাজার হিস্যা হারাচ্ছে বাংলাদেশ। ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ইউরোপে পোশাকের সামগ্রিক চাহিদা কমলেও বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে আরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলডিসি উত্তরণ, বাড়তি প্রতিযোগিতা, জ্বালানি সংকট ও নীতিগত অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের সংকলিত ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট পোশাক আমদানি কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ। ফলে ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ২১ দশমিক ৫ শতাংশে।
বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগীদের মধ্যে চীন, ভিয়েতনাম, ভারত ও তুরস্কের রপ্তানিও কমেছে, তবে বাংলাদেশের তুলনায় তাদের পতন কম।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের মতে, এলডিসি উত্তরণের আগে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ধীরে ধীরে বিকল্প সোর্সিং গড়ে তুলছে। ভবিষ্যতে শুল্ক সুবিধা হারানোর আশঙ্কায় অনেক ক্রেতাই ভারতসহ অন্য বাজারে ঝুঁকছে।
শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, শুধু তুলাভিত্তিক পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেইড ফাইবার পণ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং নেট-জিরো লক্ষ্যে স্পষ্ট পরিকল্পনা না থাকলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখা কঠিন হবে।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য আরও বলছে, রপ্তানির পরিমাণের পাশাপাশি পণ্যের দামও কমেছে। ইইউ বাজারে বাংলাদেশের গড় রপ্তানিমূল্য কমে প্রতি কেজি ১৩ দশমিক ৯৬ ইউরোতে নেমেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এলডিসি-পরবর্তী সময়ের জন্য বাণিজ্য চুক্তি, বাজার বহুমুখীকরণ এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি নীতি, জ্বালানি ও বাণিজ্য কৌশলে দ্রুত পরিবর্তন আনতে না পারলে ইউরোপের সবচেয়ে বড় পোশাক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।