গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল হালিম মোল্লার ব্যক্তিগত অফিসে ডেকে নিয়ে এক বালু ব্যবসায়ীকে পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর, টাকা ছিনতাই এবং নদীজুড়ে ট্রলারে রাতভর নারকীয় নির্যাতনের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় হালিম মোল্লাসহ সাত বিএনপিনেতার নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে গাজীপুরের বাসন থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। গত সোমবার (২৯ জুন) সেই বালু ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—বরিশালের মান্নান, টাঙ্গাইলের শরিফ আজাদ, নূর ইসলাম দিপু, আসাদুল ইসলাম আসু, মাসুদ রানা, মো: মাসুদ ও আ: রশিদ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন কোনো কারণ ছাড়াই রাস্তা থেকে ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হালিম মোল্লার অফিসে। সেখানে ঢোকামাত্রই আমিরুলের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে খুনের হুমকি দেওয়া হয় এবং শুরু হয় বর্বর নির্যাতন। নির্যাতনের একপর্যায়ে আমিরুলের পকেটে থাকা নগদ এক লাখ টাকা এবং মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। স্থানীয় লোকজনের টের পাওয়ার ভয়ে আসামিরা আমিরুলকে কডডা নদীতে নিয়ে যায় এবং একটি ট্রলারে জিম্মি করে সারারাত নদীজুড়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নির্যাতন চালায়। পরবর্তী সময়ে নিজেদের অপরাধ ঢাকতে ও ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে অসুস্থ অবস্থায় আমিরুলকে একটি উল্টো মামলায় জড়িয়ে বাসন থানায় সোপর্দ করে আসামিরা।
![]()
ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলামের অভিযোগ, ‘অনেক চেষ্টার পর পুলিশ শেষমেশ থানায় আমার মামলাটি গ্রহণ করেছে। কিন্তু এত বড় ভয়ংকর আর অমানবিক নির্যাতনের পরও আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি বাসন থানা পুলিশ।’
এদিকে মামলার প্রধান আসামি আব্দুল হালিম মোল্লার সঙ্গে কথা বলতে তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
মামলার সর্বশেষ পরিস্থিতি খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, গত রোববার (৫ জুলাই) প্রধান আসামি হালিম মোল্লাসহ অন্য আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিন নিয়েছেন।
এ বিষয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশের বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশীদ বলেন, ‘এই প্রকাশ্য শত্রুতা মূলত একটি মাঠের বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে। উভয়পক্ষের ভেতরের ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণেই এই রক্তক্ষয়ী মামলার সূত্রপাত।’
ওসি জানান, ঘটনার পর উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে এবং দুটি মামলাই এখন তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।
টর্চার সেলে পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে অস্ত্রের বিষয়টি মামলার আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) দেখভাল করছেন। তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হলে পুরো ঘটনার সত্যতা বিস্তারিত জানা যাবে।’