রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে মূল আসামিসহ চারজনকে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন আরও কয়েকজনকে এখন খুঁজছে পুলিশ।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান।
থানাসূত্র জানায়, গত বুধবার দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারে আসাদুল নামের একজনকে ধারালো চাকু এবং ইট দিয়ে থেতলে হত্যা করা হয়। এ ব্যাপারে আসাদুলের চাচাতো বোন অঞ্জু আক্তার বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপরই অভিযানে নামে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. মুন্না (২৪), মো. আকতার হোসেন (৪৫), মো. মিরাজ ফকির (২২) এবং মো. নয়ন ওরফে খোকন (২৪)।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে রায়েরবাজারের সাদেক খানের ইটখোলা এলাকায় রিপনের ওয়ার্কশপের সামনে রাস্তায় আসাদুল ওরফে লম্বু আসাদুলের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা ধারালো চাকু এবং ইট দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান আসাদুল। পরে পুলিশ সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আসাদুলকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
থানা সূত্র আরও জানায়, মামলা রুজুর পর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি টিম গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় ও তাদের অবস্থান শনাক্ত করে। শুক্রবার কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইস গিয়ার চাকু জব্দ করা হয়।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন, তাদের সঙ্গে আসাদুলের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। আসামি আকতার হোসেনকে একসময় আসাদুল মারধর করে গুরুতর আহত করেছিলেন। ওই ঘটনায় মামলাও হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে আসামিরা স্বীকার করেছেন। এছাড়া টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল বলে জানা যায়। মুন্নার বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইয়ের সাতটি, মিরাজের বিরুদ্ধে একটি এবং নয়নের বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।