পাঁচ বছর ধরে শারীরিকভাবে অচল। হুইলচেয়ার ছাড়া এক পা-ও চলতে পারেন না ৮০ বছরের রবীন্দ্রনাথ সরকার। তবু ভোটের দিনে ঘরে বসে থাকতে রাজি নন তিনি। সকাল থেকেই ছেলের কাছে একটাই অনুরোধ— ‘আমাকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে চলো।’
পরে ছেলে ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত তাকে হুইলচেয়ারে করে আনা হয় জয়পুরহাট সদর উপজেলার পারুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে। পূর্ব পারুলিয়া হিন্দুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ সেখানে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট দেওয়ার পর তার মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি।
রবীন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে অসীম সরকার নাগরিক প্রতিদিনকে জানান, তার বাবার বয়স ৮০ বছর। গত পাঁচ বছর ধরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ও চলাচলে অক্ষম। তবু ভোটের ব্যাপারে ছিলেন খুবই আগ্রহী।
অসীম বলেন, ‘ভোট দেওয়ার জন্য বাবা বাড়িতে বসেই ছটফট করছিলেন। আমি নিজে এবং প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে ভোটকেন্দ্রে এনেছি। ভোট দিতে পেরে বাবা খুব স্বস্তি পেয়েছেন।’
ভোট দিয়ে বেরিয়ে রবীন্দ্রনাথ সরকার বলেন, ‘আমার বয়স হয়েছে, আবার অসুস্থও। হয়তো এটিই আমার জীবনের শেষ ভোট হতে পারে। তাই কষ্ট করে হলেও ভোট দিলাম। এখন ভালো লাগছে।’
ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত অন্য ভোটাররাও তার এই আগ্রহ ও দৃঢ়তাকে সাধুবাদ জানান। বয়স ও অসুস্থতাকে জয় করে ভোট দিতে আসা রবীন্দ্রনাথ যেন মনে করিয়ে দিলেন— ভোট শুধু একটি অধিকার নয়, অনেকের কাছে তা দায়িত্ব ও আত্মমর্যাদার বিষয়ও।