মেহেরপুরে নিঃসন্তান এক গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে মুজা শেখ ওরফে মুজা কবিরাজ (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মুজা শেখ মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের শেখপাড়ার মৃত হযরত আলীর ছেলে।
রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, নিঃসন্তান এক গৃহবধূ চিকিৎসা নিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন। সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত এই মামলায় চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন। এ রায়ের মাধ্যমে সমাজে ধর্ষণের মতো অপরাধ কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ৩ মার্চ চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা উপজেলার চিতল গ্রামের এক নিঃসন্তান দম্পতি সন্তান লাভের আশায় কবিরাজ মুজা শেখের কাছে চিকিৎসা নিতে মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামে আসেন। এ সময় কবিরাজ চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে স্বামী-স্ত্রীকে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে ওষুধ দেওয়ার নাম করে স্বামীকে অজ্ঞান করে গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন তিনি।
ঘটনার পরদিনই ভুক্তভোগী দম্পতি মেহেরপুর সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পায়। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মেহেরপুর সদর থানার সাবেক ওসি শাহ দারা খান ২০২১ সালের ১৯ নভেম্বর কবিরাজ মুজা শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত অভিযুক্তকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিয়াজান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।