৮ম সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ, কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ রাষ্ট্রপতির
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিনিধিদল। আজ বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ৮ম সমাবর্তনে চ্যান্সেলর হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে মৌখিক সম্মতি দেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং দেশের বেকারত্ব সমস্যা মোকাবিলায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বমানের, কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দেশের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে উচ্চশিক্ষাসহ শিক্ষার সব পর্যায়ে কর্মমুখী, কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া অপরিহার্য। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দিয়ে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করে পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাফায়েত মোহাম্মদ রাজু, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী, ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম হায়দার এবং বোর্ড সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খায়ের চৌধুরী।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং একাডেমিক উৎকর্ষতা নিশ্চিত করতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।
প্রতিনিধিদল জানায়, জেসাপ (Jessup) আন্তর্জাতিক মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ২০২৬ সালসহ মোট চারবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এ অর্জন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, আইনি জ্ঞান ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার প্রতিফলন।
উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও প্রতিনিধিদল তুলে ধরে। তারা জানায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ কোটি টাকারও বেশি বৃত্তি প্রদান করেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিবছর প্রায় ৬ কোটি টাকার বৃত্তি দিচ্ছে। এসব বৃত্তি একদিকে যেমন একাডেমিক উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণ করছে।
রাষ্ট্রপতি এ সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বশেষ অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে তিনি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার পরিধি সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রম জোরদারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।