নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার অপূর্বর (২২) চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) তাকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে এক দিনের রিমান্ড শেষে অপূর্বকে দুর্গাপুর চৌকি আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার পর দুর্গাপুর পৌর শহরের পুরোনো সিনেমা হলের সামনে থেকে অপূর্বকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার শমসের আলীর ছেলে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি দিনের বেলায় আত্মগোপনে থাকতেন এবং গভীর রাতে বের হতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন রোববার আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এরপর সোমবার দুপুরে অপূর্বকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভূঁইয়া তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার আবারও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক সূত্র ধরে তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
পুলিশের দাবি, সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের সময় অপূর্ব ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তার হেফাজতে অস্ত্রভর্তি একটি ব্যাগ ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এ বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন শ্যুটারের ভাগ্নে অপূর্ব। ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি পেশাদার খুনি হিসেবে পরিচিত বলে পুলিশের ভাষ্য। তার ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রগুলো অপূর্বর হেফাজতে রাখা হতো বলেও তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তবে এসব তথ্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার তেলঞ্জিয়া এলাকার একটি দোকানে চা পান করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির।
এ ঘটনায় পরদিন শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ।