মাগুরায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মনু মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে তাকে মৃত ভেবে মাঠের মধ্যে ফেলে রেখে তার সহযোগীরা পালিয়ে গেছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিনগত রাতে সদর উপজেলার ১৮খাদা ইউনিয়নের কালীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মনু মিয়া মাগুরা পৌরসভার পারনান্দুয়ালী এলাকার রজব আলীর ছেলে। তার বাড়ি লক্ষ্মীকান্তর পুলিশ ফাঁড়ির পাশে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে কয়েকজন ব্যক্তি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় মনু মিয়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাকে মৃত মনে করে সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে কিছুটা দূরে মাঠের মধ্যে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
শনিবার সকালে স্থানীয়রা মাঠের মধ্যে অচেতন অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যান। পরে জ্ঞান ফিরলে তিনি নিজের পরিচয় মনু মিয়া বলে জানান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের আশপাশে খোঁজ করে একটি ব্যাগ, কাপড় ও ট্রান্সফরমার চুরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়।
আহত মনু মিয়া দাবি করেন, মুরাদ, ইব্রাহিম ও মফিজ নামে আরও তিনজনের সঙ্গে তিনি চুরির কাজে ছিলেন। তাদের বাড়ি মাগুরা পৌরসভার পারনান্দুয়ালী এলাকায়। চুরি করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে যাওয়ার পর ওই তিনজন তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও স্যালো মেশিনের বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটছে। রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ চক্রের এমন তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়ছে। একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা আহত মনু মিয়ার চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার দেওয়া তথ্য, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সরঞ্জাম ও অন্যান্য আলামত যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা তদন্ত করছি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি চুরি করতে গিয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলের খাম্বা থেকে বেশ কিছুটা দূরে আলামত পাওয়া গেছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নই। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।’