রোববার রাঙামাটির লংগদুতে নৌকাডুবির পর সন্তানকে বাঁচিয়ে ডুবে কাপ্তাই হ্রদে নিখোঁজ হন ফালান মিয়া। এর প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
ফালান মিয়া লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের ছোট মাহিল্যা গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহাবুদ্দিনের ছেলে। এর আগে, স্থানীয়দের কাছ থেকে ডুবে যাওয়া ওই পিতার নাম সালাম বলে জানা গিয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট মাহিল্যা গ্রামের জেলে ফালান মিয়া মাছ ধরার একটি ছোট নৌকায় সার নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিল ৮-৯ বছর বয়সী শিশুপুত্র। কালাপাকুজ্যা ও গুলশাখালী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ১৪ নম্বর বিল এলাকায় পৌঁছালে আকস্মিকভাবে নৌকাটি ডুবে যায়।
নৌকাডুবির পর ফালান মিয়া নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সন্তানকে আঁকড়ে ধরে পানিতে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে দূর থেকে একটি নৌকা তাদের দেখতে পায়। তখন নিজের সর্বশেষ শক্তি দিয়ে ছেলেকে ওই বোটে তুলে দেন তিনি।
সন্তানকে নিরাপদে তুলে দেওয়ার পরই পানিতে ডুবে যান ফালান মিয়া। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর সোমবার সকালে কাপ্তাই হ্রদ থেকে ফালান মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, নিজের জীবন বিপন্ন জেনেও সন্তানকে নিরাপদে তুলে দেওয়ার ঘটনা এলাকায় শোকের পাশাপাশি গভীর আবেগের সৃষ্টি করেছে।