প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সুনামগঞ্জ প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিতে অনিয়মের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত খাবার বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। সপ্তাহে নির্ধারিত পাঁচ দিনের খাদ্যতালিকায় কোনো ব্যত্যয় ঘটলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় তিনি স্বীকার করেন যে, কর্মসূচির শুরুর দিকে কিছু গাফিলতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তবে বর্তমানে তা শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত খাবারের মানের ক্ষেত্রে কোনো রকম আপস করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
হাওরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতাকে মাথায় রেখে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। হাওরের শিশুদের শিক্ষার মূল স্রোতে ধরে রাখা ও শিক্ষার সার্বিক মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। স্থানভিত্তিক সুনির্দিষ্ট চাহিদা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন ত্বরান্বিত করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় পদায়নে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সব নিয়মকানুন সম্পন্ন করে প্রায় ১৪ হাজার নতুন শিক্ষককে পদায়ন করা হবে। পদায়নের পর তাদের দুই মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিয়ে দ্রুত শ্রেণিকক্ষে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান, পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহনলাল দাসসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পিটিআইয়ের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা ও পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।