বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের দেলভাষানি সরকারি খাল নির্ধারিত সময়সীমার একদিন আগেই দখলমুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষের জন্য খালের ওপর নির্মিত বাঁধ ও পাটা অপসারণ করায় আবারও স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরবে এবং এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে স্থানীয় যুবদল নেতা শেখ সাইফুজ্জামান মনার নেতৃত্বে খালের ওপর নির্মিত বাঁধ ও পাটা অপসারণ করে খালটি উন্মুক্ত করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং খাল দখল করে মাছ চাষ করা ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ৪ জুলাই দেলভাষানি খাল দখলমুক্ত করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. আতিয়া খাতুনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সেদিন প্রশাসন অবৈধ দখল উচ্ছেদের উদ্যোগ নিলে সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন দখলকারী সময়ের আবেদন জানান। তাদের দাবি ছিল, সরকারি খাল আটকে মাছ চাষে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে খাল উন্মুক্ত করা হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা সেদিনই খালটি দখলমুক্ত করার দাবি জানান। পরে মানবিক ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন ২০ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়, যাতে খামারিরা মাছ তুলে নিতে পারেন। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই দখলকারীরা স্বেচ্ছায় খালের ওপর নির্মিত অবকাঠামো অপসারণ করে খালটি উন্মুক্ত করেন।
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, সরকারি খাল পুনরুদ্ধার ও খনন সরকারের চলমান কর্মসূচির অংশ। সারা দেশের মতো বাগেরহাটেও পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই তাদের নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল। তারা সময় শেষ হওয়ার আগেই স্বেচ্ছায় খালটি অবমুক্ত করেছেন।
জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, জেলা প্রশাসনের তিন বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার আওতায় জেলার সরকারি খাল ও প্রাকৃতিক জলাধার পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং জলজ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার ৭৫টি ইউনিয়নে ছোট-বড় শতাধিক সরকারি খাল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সামান্য বৃষ্টিপাত, জোয়ার কিংবা দুর্যোগেই বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
এ কারণে শুধু দেলভাষানি খাল নয়, জেলার সব সরকারি খাল দ্রুত দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এতে জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা পাবে।