মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে আমিও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। দুই বছরেও ওয়াসিম হত্যা মামলার বিচার না হওয়া বিচার বিভাগের দুর্বলতা।’
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় শহীদ ওয়াসিম আকরামের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম। তার কবর জিয়ারত শেষে ইশরাক বলেন, ‘দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ওয়াসিম হত্যা মামলার বিচার না হওয়া বিচার বিভাগের দুর্বলতার পরিচায়ক।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে দেশের জনগণই তা প্রতিহত করবে।‘
এ সময় শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, ‘দুই বছরেও মামলার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতারা যেমন অপরাধী, তেমনি যারা তা বাস্তবায়ন করেছে তারাও সমানভাবে অপরাধী। সবার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘খুনি হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই জুলাই-আগস্টের সকল শহীদের আত্মা শান্তি পাবে।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুরের ষোলশহর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম। আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে তিনিই প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিতি পান।
এদিকে, ওয়াসিমের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার মা জোছনা বেগম ছেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘ছেলেকে খুব মনে পড়ে। তিন বছর আগে এমন বন্যার সময় সাঁতার কেটে বাড়ি এসেছিল। বাজার থেকে শুকনো খাবার এনে দিয়েছিল, বাড়ির সব কাজও করেছিল।’
অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘কবরের পাশে গেলে আর ফিরতে মন চায় না। মনে হয়, আমার ছেলেটা এখানেই আছে। খুব কষ্ট লাগে।’