এক বছর ধরে ভাঙা সেতুর কারণে চরম ভোগান্তিতে ছিলেন নাটোরের সিংড়া ও গুরুদাসপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। অবশেষে সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না করে নিজেদের অর্থায়ন ও সম্মিলিত উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে নতুন একটি সেতু। প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতু এখন এলাকাবাসীর কাছে শুধু একটি যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং ঐক্য, সহযোগিতা ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার চামারী ইউনিয়নের হোলাগাড়ী বাজার এলাকায় নন্দ কুজা নদীর ওপর নির্মিত পুরোনো কাঠের সেতুটি গত বছরের বর্ষায় নদীতে জমে থাকা কচুরিপানার তীব্র চাপে ভেঙে পড়ে। এরপর থেকেই সিংড়া ও গুরুদাসপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার হাজারো মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
সেতুটি ভেঙে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, কৃষক, রোগী, নারী ও প্রবীণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিদিন বিকল্প দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হয়েছে। এতে সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই বাড়তি ভোগান্তির শিকার হন স্থানীয়রা।
হোলাগাড়ী বাজারের ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি চামারী ডিগ্রি কলেজ, চামারী হাফেজিয়া মাদরাসা, সোনাঘাটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সোনাঘাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের প্রতিদিনের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা ছিল এই সেতু। এছাড়া পাশের কবরস্থানে যাতায়াত করতেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে এলাকাবাসীকে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্থানীয় সামাজিক সংগঠন চামারী জাগরনী সংঘের উদ্যোগে এবং গ্রামবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অর্থায়নে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন সেতুটি। এলাকাবাসীর মতে, এটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়; বরং পারস্পরিক সহযোগিতা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক।
গত শনিবার বেলা ১১টায় উৎসবমূখর পরিবেশে সেতুটির উদ্বোধন করেন চামারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মো. রাশিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চামারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজু আহমেদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাসুদ রানা, চামারী জাগরনী সংঘের সাধারণ সম্পাদক কেতাব আলীসহ স্থানীয় গ্রামবাসী।
সেতুর উদ্বোধনের পর দুই পাড়ে জড়ো হওয়া মানুষের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি। নতুন সেতু চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত, কৃষিপণ্য ও ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল আবারও স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই সেতু শুধু নদীর দুই তীরকে নয়, মানুষের হৃদয়কেও একসূত্রে গেঁথেছে। তাদের বিশ্বাস, সম্মিলিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা থাকলে যে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ সফল করা সম্ভব। হোলাগাড়ী বাজারের নতুন এই সেতু সেই বিশ্বাসেরই বাস্তব প্রতিফলন।