কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণ ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। এতে সেন্টমার্টিনের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপকূলে একের পর এক বড় ঢেউ আছড়ে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা।
তারা জানান, জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় দ্বীপের নিচু এলাকার বহু বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। উত্তাল সাগরের কারণে জেলেরাও মাছ ধরতে যেতে পারছেন না, ফলে তাদের জীবিকায়ও বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
দ্বীপের পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উত্তাল সাগরের কারণে বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় চার থেকে পাঁচ ফুট বেড়েছে। বড় বড় ঢেউ একের পর এক দ্বীপের চারপাশে আছড়ে পড়ছে। একই সঙ্গে বৃষ্টির পানিতে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
সাবেক ইউপি সদস্য হাবিব উল্লাহ বলেন, অধিকাংশ মানুষ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঘরেই অবস্থান করছেন। জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে এবং কয়েকটি স্থানে উপকূল ভাঙনের ঘটনাও দেখা দিয়েছে।
সেন্টমার্টিন সার্ভিস ট্রলার সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে ট্রলার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি এবং সতর্ক সংকেত প্রত্যাহারের পর পুনরায় ট্রলার চলাচল শুরু হবে।
সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, জোয়ারের পানিতে দ্বীপের অনেক বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, টানা ভারী বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেন্টমার্টিন এলাকায় সাগরের পানির উচ্চতা বেড়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান ও অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।