বরিশালের এক ডেভেলপার কোম্পানির এমডিকে মারধর, নির্যাতন ও অণ্ডকোষ চেপে ধরে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন—মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদ।
এর আগে গত ২৭ জুন রাতে জেলার সদর রোডে অফিস কক্ষে বাকলা ডেভেলপারস প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও অগ্রণী হাউজিং কোম্পানির এমডি মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর, নির্যাতন ও অণ্ডকোষ চেপে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতে মামলা করেন। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানান তিনি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ বলেন, ‘ডিবি ও মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক টিম সকাল থেকেই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছিল। দুপুরের দিকে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদকে আটক করা হয়।’
এর আগে ভুক্তভোগী মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদার দাবি করেন, হামলাকারীদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর সঙ্গে আবুল কালাম আজাদ ও আ. মালেক ছিলেন। তারা পূর্বপরিচিত ও ব্যবসায়িক পার্টনার। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদ বাকলা ডেভেলপারস প্রাইভেট লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার ছিলেন। ২০২৩ সালে সব শেয়ার বিক্রি করে তারা দেনা-পাওনা বুঝে নেন। আর মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আ. মালেক অগ্রণী হাউজিং কোম্পানির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কোম্পানিটিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
আব্দুল আজিজ হাওলাদার আরও বলেন, ‘গত ২৭ জুন শনিবার রাতে বাকলা ডেভেলপারস প্রাইভেট লিমিটেডের অফিসে এসে আমাকে তারা মারধর করেন। এ সময় তারা স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেন। পরে থানায় নিয়ে অভিযোগ দেন টাকা পাওয়ার। সেই অভিযোগ অনুযায়ী সালিশের ব্যবস্থাও করা হয়। এর মধ্যে মারধরের কারণে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে সুস্থ হয়ে আদালতে মামলা করি। আমি এখনো ভয়ে আছি—তারা যেকোনো সময় আমার উপর হামলা করতে পারেন। এ ঘটনায় আমি আদালতের দারস্থ হয়েছি এবং ন্যায্য বিচার আশা করি।’
মামলার আইনজীবি মো. আবদুল রশীদ খান বলেন, ‘বাদীকে মারধর করে একটা লিখিত ও ব্ল্যাঙ্ক চেক নেওয়া হয়েছে। ৬টা স্ট্যাম্প লিখিত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও আদালতে দেখানোমাত্র আদালত এফআইআর দিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনা সন্ত্রাসী কার্যক্রম।’
এদিকে এ ঘটনার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু দাবি করেন, ‘পাওনা টাকা না পাওয়ায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদার আমাদের পাওনা টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করে রেখেছেন। এতে আমরা পারিবারিকভাবে কষ্টে থাকায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বেশকিছু ভিডিওতে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে যুবদল নেতা বলায় সংবাদ সম্মেলন করেছে বরিশাল মহানগর ও জেলা যুবদল।
এ সময় কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এইচ এম তসলিম উদ্দিন জানান, যুবদলের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর। এমনকি দলের কোনো কমিটিতে থাকা তো দূরের কথা, কোনোদিন কোনো মিটিং-মিছিলেও আসেননি তিনি। যুবদলের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানান তিনি।