বারবার আবেদন করেও মেলেনি জনপ্রতিনিধিদের সাড়া। দীর্ঘদিনের চরম ভোগান্তির পর অবশেষে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের রসুলপুর পকপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর পকপাড়া গ্রামে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস। গ্রামের একমাত্র রাস্তায় প্রায় ৫-৬ বছর আগে ইটের সলিং করা হয়েছিল। দীর্ঘ দিন ব্যবহার ও কোনো সংস্কার না করায় রাস্তাটিতে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ গ্রামের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান, মেম্বার সবার কাছেই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য আবেদন করেছেন বহুবার। তবে প্রতিবার তারা আশ্বাস ছাড়া কিছুই দেননি। অবশেষে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে গ্রামের প্রতি বাড়ি থেকে টাকা সংগ্রহ করে শুরু করেন রাস্তা সংস্কারের কাজ।
আব্দুর ইউসুফ নামের স্থানীয় এক যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ইউনিয়ন পরিষদেও গিয়েছি, কিন্তু সেখানে কাজের কোনো উদ্যোগ বা বরাদ্দের খবর পাওয়া যায়নি। তারা আমাদের সবসময় বলে যে কোনো বরাদ্দ নেই। তাই নিরুপায় হয়ে আমরা গ্রামবাসী নিজেদের খরচে এই রাস্তা মেরামতের কাজ করছি।’
আসলাম মন্ডল বলেন, ‘আমরা রসুলপুর পকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে আমরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছি। রাস্তার এই বেহাল দশা নিয়ে আমরা বারবার ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং এমনকি ইউএনও সাহেবের কাছেও গিয়েছি। কিন্তু কেউ আমাদের এই রাস্তার কোনো কাজ করে দেয়নি। সব জায়গায় ব্যর্থ হওয়ার পর আমরা গ্রামের মানুষ নিজেরা মিলে তহবিল গঠন করেছি। এখন নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে আমরা নিজ হাতে এই রাস্তা মেরামতের কাজ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মাহমুদপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিলন মন্ডল আমাদের এই রাস্তার বিষয়টি ইউএনও সাহেবকেও কখনো জানাননি এবং এই রাস্তার প্রতি কোনো নজর দেননি।’
রাস্তা মেরামতের কাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আজিজার, জালাল, একরামুল, মিটু, হাশেম আলীসহ গ্রামবাসীরা দাবি করে জানান, চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছে বারবার গিয়ে শুধু আশ্বাসই পেয়েছি, কোনো কাজ হয়নি। আমাদের দুর্ভোগ কেউ দেখে না। তাই বাধ্য হয়ে গ্রামের সবাই মিলে টাকা তুলে রাস্তা মেরামত করছি। আমরা দ্রুত এই রাস্তাটি কার্পেটিং করার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম বলেন, ‘গ্রামবাসী আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমি প্যানেল চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কাজ করা সম্ভব হয়নি।’
মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিলন মন্ডল বলেন, ‘এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা মেরামত করছে, এটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। আগামীতে বরাদ্দ এলে রাস্তাটির স্থায়ী উন্নয়ন কাজ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী বলেন, ‘গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা মেরামতের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুত ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে আগামী বরাদ্দে এই রাস্তার স্থায়ী কাজ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’