আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে সাড়ে ৩৫ হাজারের বেশি। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। এর বিপরীতে স্থানীয়ভাবে প্রস্তুত রয়েছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি পশু। ফলে, মোট ঘাটতি রয়েছে ৩৫ হাজার ৫২০টি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে প্রতিপালিত পশুর মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯৯টি ষাঁড়, ৯০ হাজার ৪৮৮টি বলদ, ৩৩ হাজার ৭৯২টি গাভী, ৪৭ হাজার ৮৩৪টি মহিষ, ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি ছাগল, ৪১ হাজার ৪২৩টি ভেড়া এবং অন্যান্য ৯৬টি পশু।
তথ্যে আরও দেখা যায়, চট্টগ্রামের গ্রামাঞ্চল ও উপজেলাগুলোতে পশুর উদ্বৃত্ত থাকলেও নগর এলাকায় ঘাটতি বেশি। উপজেলাগুলোর মধ্যে মিরসরাইয়ে ৬ হাজার ৫১০টি, সন্দ্বীপে ১১ হাজার ৬০৪টি, সীতাকুণ্ডে ৩ হাজার ২৩০টি, ফটিকছড়িতে ৭ হাজার ৮১৮টি এবং লোহাগাড়ায় ৬ হাজার ৯৭৬টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। এছাড়া বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, নগরীর পাঁচলাইশ এলাকায় ৩০ হাজার ১৫২টি, কোতোয়ালিতে ৩১ হাজার ১৫৮টি এবং ডবলমুরিং এলাকায় সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ২০টি পশুর ঘাটতি রয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, গ্রামাঞ্চলের উদ্বৃত্ত পশু শহরে সরবরাহের কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে শেষ মুহূর্তে বাজারে চাপ বাড়তে পারে। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চট্টগ্রামে কোরবানির পশু আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে ২২ লাখের বেশি কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। ফলে, দেশীয় পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে এবং ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায়ের সুযোগ পাবে না।