শিরোপা নিশ্চিত করার পর আগের ম্যাচে হারের হতাশা ছিলই। তবে নিজেদের মাঠে ফিরেই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল বার্সেলোনা। পুরো ম্যাচে আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়ে রিয়াল বেতিসকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। জোড়া গোল করেন রাফিনিয়া, আর একটি গোল যোগ করেন জোয়াও ক্যান্সেলো।
রোববার দিবাগত রাতে ক্যাম্প ন্যুয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বার্সেলোনা। বলের নিয়ন্ত্রণ আর একের পর এক আক্রমণে বেতিসকে চাপে রাখে কাতালানরা। ম্যাচের ২৮ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রাফিনিয়া। গোলের পরও থামেনি বার্সেলোনার আক্রমণ, তবে প্রথমার্ধে আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি তারা।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬২ মিনিটে আবারও জালে বল পাঠান রাফিনিয়া। প্রতিপক্ষের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এর পর ৬৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমান ইস্কো। বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলে ভিডিও সহকারি রেফারির সহায়তায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন ম্যাচ কর্মকর্তা।
তবে বেতিসের আশা বেশিক্ষণ টিকতে দেয়নি বার্সেলোনা। ৭৪ মিনিটে পেদ্রির পাস থেকে বক্সের বাইরে দারুণ এক শটে গোল করেন কান্সেলো। তাতেই নিশ্চিত হয় কাতালানদের জয়। ৩৭ ম্যাচ শেষে ৩১ জয় ও এক ড্রয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট এখন ৯৪। সমান ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে রিয়াল বেতিস।
তবে ম্যাচের আরেকটি বড় আলোচনার বিষয় ছিল রবার্ট লেভানডস্কি। মৌসুম শেষে বার্সেলোনা ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া এই পোলিশ তারকা ঘরের মাঠে খেললেন নিজের শেষ ম্যাচ। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট আগে তাকে তুলে নেওয়া হলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। দর্শকেরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে বিদায় জানান এই ফরোয়ার্ডকে।
ম্যাচ শেষে সতীর্থরা লেভানডস্কিকে শূন্যে তুলে উদযাপন করেন। বার্সেলোনার সভাপতিও তার হাতে বিশেষ স্মারক তুলে দেন। জয়ের রাতটা তাই রঙিন হওয়ার পাশাপাশি হয়ে ওঠে আবেগে ভরা এক বিদায়ের মুহূর্তও।