বাজারে আসতে শুরু করেছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী, রসালো ও সুগন্ধি আম ‘হিমসাগর’। শুক্রবার (১৫ মে) সকাল থেকে বাগানগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে এই আম সংগ্রহ শুরু হয়।
এর আগে গত ২৬ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের এক সভায় ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও রাসায়নিকমুক্ত আম নিশ্চিত করতে সংগ্রহের এই সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সেই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে।
আমচাষিরা জানান, আমকেন্দ্রিক এই কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান উৎস। বাগানে কাজ করে শ্রমিকরা মাসে প্রায় ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আমচাষি আলমাস বেপারি জানান, এ বছর আমের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তাই লাভের ব্যাপারেও তিনি আশাবাদী। তবে এলাকায় আধুনিক সংরক্ষণাগার থাকলে চাষিরা আরও বেশি লাভবান হতে পারতেন বলে মনে করেন তিনি। বর্তমানে বাগান থেকেই প্রতি মণ আম তিন হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ঢাকা থেকে সাতক্ষীরায় আম কিনতে আসা পাইকার ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ‘সাতক্ষীরার হিমসাগর আম স্বাদ ও মানের দিক থেকে অনন্য। বিদেশের বাজারেও এ আমের চাহিদা ব্যাপক। রাসরি বাগান থেকে আম সংগ্রহ করলে নিরাপদ ও মানসম্মত ফল পাওয়া যায়, পাশাপাশি চাষিরাও ন্যায্যমূল্য পেয়ে লাভবান হন।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে (২০২৫-২৬) সাতক্ষীরায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার জেলায় মোট আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন।
জেলায় উৎপাদিত আমের মধ্যে সিংহভাগই হিমসাগর জাতের। স্বাদে ও মানে অনন্য হওয়ায় সাতক্ষীরার এই আম দেশের চাহিদা মিটিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও যাবে ইউরোপের বাজারে। প্রথম ধাপে ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক বাজারে ১০০ মেট্রিক টন হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।
প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগ ও গোপালভোগসহ স্থানীয় বৈশাখী আম বাজারে এসেছে। আজ ১৫ মে থেকে শুরু হলো হিমসাগর। এরপর আগামী ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি আম সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
অপরিপক্ব আমে ক্ষতিকর কেমিক্যাল বা কার্বাইড ব্যবহার রোধে বাগান ও বড় বড় পাইকারি বাজারগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষমুক্ত ও শতভাগ নিরাপদ আম ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দিতে মাঠে মোবাইল কোর্ট সক্রিয় রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে আম সংগ্রহ করলে বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।