সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবনে অপহরণের শিকার হওয়ার পর বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা পাঠায় পরিবার। তবে এখনো বাড়ি ফেরেননি বনজীবী শুকুর আলী ও রেজাউল।
জানা গেছে, গত ৪ ও ৫ মে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী ও নানাভাই/ডন বাহিনীর পরিচয়ে অস্ত্রধারী দস্যুরা সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদীর গোয়াল বুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালীর খাল, মামুন্দো নদীর মাধভাঙা খাল এবং মালঞ্চ নদীর চালতে বেড়ের খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাদের মহাজন, সহযোগী ও পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
অপহৃতদের মহাজন ও তাদের স্বজনরা জানান, দস্যুদের সঙ্গে দর-কষাকষির মাধ্যমে দাবিকৃত মুক্তিপণ থেকে কিছু টাকা কমিয়ে ৭ লাখ টাকায় বিনিময়ে সবাইকে ছেড়ে দিতে রাজি হয় জলদস্যুরা। এরপর একে একে ১৮জনকে দিলে তারা বাড়ি ফিরে আসে। তবে এখনো শুকুর আলী ও রেজাউল নামে দুজন এখনো ফিরে আসেনি। এতে তাদের পরিবারে বিরাজ করছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা।
ফিরে আসা জেলে ও মৌয়ালরা জলদস্যুদের হাত থেকে বাকি দুজনকে দ্রুত মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বনাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার ও নিয়মিত টহল বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে অপহৃতদের পরিবারের সদস্যরা বন বিভাগের কাছে সঠিক তথ্য দিচ্ছে না বলে দাবি করেছেন পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘জলদস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে। তবে অপহৃতদের পরিবার বা সহযোগীরা বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আমাদের যথাযথ সহযোগিতা করছে না। তারা সহযোগিতা করলে আমরা সুন্দরবনের দস্যু দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারি।’