‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড' অভিযানে সুন্দরবনের বনদস্যু ‘মেজো জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধানকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করেছে কোস্ট গার্ড। মঙ্গলবার (১২ মে) মধ্যরাতে সুন্দরবনের শিবসা নদীর কালীর খাল থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক দস্যু বাহিনী প্রধান মো. জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজো জাহাঙ্গীর নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা (ঢাকা) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, ‘‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুইটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে চতুর্থবারের মতো অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ডের আওতায় অভিযান চালিয়ে বনদস্যু মেজো জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান মো. জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজো জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়।
সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু জাহাঙ্গীর সুন্দরবনের শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় অবস্থান করছে বলে গোয়েন্দা তৎপরতায় জানা যায়। প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ১টায় কোস্ট গার্ড ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে দুটি একনালা বন্দুক ও ৫ রাউন্ড তাঁজা গুলিসহ আটক করা হয়।
আটককৃত ডাকাত মো. জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজো জাহাঙ্গীর (৫৬) নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাসিন্দা। সে ১৫ বছর ধরে এ বাহিনীর প্রধান হিসেবে সুন্দরবনে দস্যুতা ও সাধারণ জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। তার বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১৩ জন।
জব্দকৃত অস্ত্র, গুলি ও আটককৃত দস্যুর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখবে।