বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর বাধ্যতামূলক অনুমোদন পাওয়ার আগেই ‘ZenGlow’ মডেলের এয়ার কন্ডিশনার বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেডের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেড গত ৩০ মার্চ ‘ZenGlow’ মডেলের এয়ার কন্ডিশনার দেশের বাজারে বিক্রি শুরু করে। তবে একই মডেলের বিএসটিআই অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয় চলতি বছরের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে। অর্থাৎ, অনুমোদনের জন্য আবেদন করার প্রায় তিন মাস আগেই পণ্যটি বাজারজাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে, তা বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক মাননিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া এবং প্রচলিত সরকারি বিধিমালা অনুসরণ না করেই পণ্য বাজারজাত করার শামিল হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনীয় মান যাচাই ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ছাড়া কোনো এয়ার কন্ডিশনার বাজারজাত করা হলে তার গুণগত মান, কার্যক্ষমতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ কারণে ‘ZenGlow’ মডেলের উৎপাদন, অনুমোদন এবং বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, শুধু ‘ZenGlow’ নয়, হায়ার বাংলাদেশের আরও কয়েকটি এয়ার কন্ডিশনার মডেলও প্রয়োজনীয় বিএসটিআই অনুমোদন পাওয়ার আগেই বাজারজাত করা হয়েছে। এসব মডেলের কিছু পণ্য বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা সরকারি মাননিয়ন্ত্রণ নীতিমালার ব্যত্যয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ ছাড়া বিভিন্ন অনলাইন ব্যবহারকারী গ্রুপ ও ক্রেতাদের মতামতে হায়ার এয়ার কন্ডিশনারের কম কুলিং, প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না পাওয়া এবং অন্যান্য গুণগত মানসংক্রান্ত অভিযোগও উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া কোনো পণ্য বাজারজাত করা হলে তা ভোক্তার নিরাপত্তা ও আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট মডেলের অনুমোদন, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণসংক্রান্ত নথি যাচাই করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।
তবে এ বিষয়ে হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেডের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।