মেট্রোরেলের কমলাপুর সম্প্রসারিত অংশে কাজ ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭০.৯২ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আগামী বছরের মধ্যে ১.১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ অংশের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশের কাজ দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। মেট্রো লাইন-৬ প্রকল্পের পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল ওয়াহাব এসব তথ্য দিয়েছেন বলে বাসস বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
আব্দুল ওয়াহাব বলেন, স্বয়ংক্রিয় দরজা, সিগন্যালিং সিস্টেমসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি আগামী বছর আনা হবে। এই অংশ আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাসে বাণিজ্যিকভাবে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্র্যাক বসানোর কাজ আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
এর আগে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ জানিয়েছিলেন, সিস্টেম ও ট্র্যাক প্রস্তুতির কাজ জোরদারভাবে চলায় কমলাপুর অংশ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি চালু হবে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৭৭টি পাইল, পাইল ক্যাপ, পিয়ার ও স্টেশন কলাম সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া সব প্রি-কাস্ট প্যারাপেট ওয়াল স্থাপন করা হয়েছে এবং স্টেশনের স্টিল ছাদ কাঠামো ও স্টিল স্থাপনের কাজও শেষ হয়েছে। প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্যে দেখা যায়, কনকোর্স লেভেলে দুই হাজার ৮০০ বর্গমিটার ইটের দেয়াল ও প্লাস্টারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য চুক্তিসহ নিবিড় নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এদিকে সরকার মেট্রোরেলের ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কাজে, বিশেষ করে মতিঝিল-কমলাপুর অংশে ১৮৫ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত উত্তরা উত্তর-মতিঝিল অংশের সামগ্রিক অগ্রগতি হয়েছে ৯৯.৯৭ শতাংশ, আর মতিঝিল-কমলাপুর অংশের অগ্রগতি হয়েছে ৬৯.৮৫ শতাংশ।
বাংলাদেশের প্রথম ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইনটির মোট দৈর্ঘ্য ২১.২৬ কিলোমিটার, যা দিয়াবাড়ি-উত্তরা-মিরপুর-আগারগাঁও-ফার্মগেট-শাহবাগ-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-মতিঝিল-কমলাপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে।