আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মদিন। কলমের শক্তিতে তিনি অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়েছিলেন। কেবল বিদ্রোহের কবি নন, তিনি ছিলেন মানবতা, সাম্য, প্রেম ও চেতনার কবি।
তার লেখনীতে যেমন প্রতিবাদের বজ্রধ্বনি ছিল, তেমনি ছিল মানুষের প্রতি অগাধ মমত্ববোধ। ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি মানুষের জয়গান গেয়েছেন। একইসাথে তিনি রচনা করে গেছেন গজল ও শ্যামা সঙ্গীত।
তার কবিতা, গান, প্রবন্ধ ও সাহিত্যকর্ম আমাদের শিখিয়েছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করতে। বর্তমান সময়ের বিভক্ত ও অস্থির সমাজেও নজরুলের আদর্শ আমাদের পথ দেখায়। মাত্র ২২ বছর ব্যাপ্তির লেখক জীবনে তিনি রচনা করেন প্রায় তিন হাজার গান, লিখেছেন অসংখ্য কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস।
ক্ষণজন্মা এ প্রতিভার জন্ম, ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোলের চুরুলিয়া গ্রামে। শৈশব-কৈশোর কিংবা তারুণ্য, জীবনের পরতে পরতে তার সংগ্রাম। জীবনের বিভিন্ন সময়ে জড়িয়েছিলেন নানা পেশায়। ১৯১৭ সালে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। অংশ নেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও।
১৯৭২ সালে কবি নজরুলকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। এরপর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশেই ছিলেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন পিজি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। কবির ইচ্ছানুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।