যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে গত বছরের শুরুতে তিনিই ক্ষমতায় বসিয়েছেন।
সিরিয়ায় কুর্দিদের প্রতি আচরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, ‘সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট, যাকে মূলত আমিই সেখানে বসিয়েছি, তিনি অসাধারণ কাজ করছেন। তিনি একজন কঠোর মানুষ; কোনো শান্তশিষ্ট কয়ারবয় (গির্জায় গায়কদলের কিশোর সদস্য) নন। একজন কয়ারবয়ের পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব ছিল না। তবে সিরিয়া এখন ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে এবং বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আল-শারার প্রশংসা করে তাকে ‘সুদর্শন’ এবং ‘বেশ শক্তিশালী নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, আল-শারার ‘শক্তিশালী অতীত’ রয়েছে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট একসময় আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের নেতা ছিলেন; যারা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এক ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে দেশটির স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সহযোগী। তারা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেয়ে আসছিল।
তবে সম্প্রতি সরকারি বাহিনীর এক অভিযানে এসডিএফের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনরায় দখল করা হয়।
এর ফলে শুরু হওয়া সংঘর্ষগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়, যেখানে কুর্দি বাহিনীকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর ২০১২ সাল থেকে সিরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্থবির হয়ে ছিল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সেই সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
আল-শারা ক্ষমতা গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে তাদের নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দেয় এবং আল-শারার মাথার ওপর থাকা ১০ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কারও সরিয়ে নেয়।
গত নভেম্বরে ওয়াশিংটনে এক ঐতিহাসিক সফরের পর ট্রাম্পকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, ‘সিরীয় জনগণের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার জন্য ট্রাম্পকে এবং সিরীয় জনগণের ত্যাগকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কংগ্রেস সদস্যদের ধন্যবাদ।’
সবচেয়ে সাম্প্রতিক পদক্ষেপ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন দামেস্কে তাদের দূতাবাস পুনরায় খোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে; যা ১৪ বছর আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
প্রশাসন এই মাসে কংগ্রেসকে একটি নোটিশ পাঠিয়ে জানিয়েছে, পররাষ্ট্র দপ্তর ‘সিরিয়ায় দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার জন্য পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ইচ্ছা পোষণ করছে।’
তবে দূতাবাসটি ঠিক কবে নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে খুলবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।