কাশ্মীর একদিন পুরোপুরি পাকিস্তানেরই অঙ্গ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) কাশ্মীর সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে এ মন্তব্য করেন তিনি।
পাশাপাশি ভারতের উদ্দেশে শাহবাজ শরীফ বলেন, জম্মু–কাশ্মীর বিবাদ মেটাতে হলে কাশ্মীরি জনগণের ইচ্ছাকে গুরুত্ব ও মর্যাদা দিতে হবে। বাস্তবায়িত করতে হবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব। কাশ্মীরই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির ভিত।
প্রতিবছর ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে কাশ্মীর সংহতি দিবস পালিত হয়। ১৯৯১ সালে তৎকালীন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ জম্মু–কাশ্মীরের জনতার মুক্তি আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে দিনটি উদযাপন শুরু করেন। দিনটি পাকিস্তানে জাতীয় ছুটি হিসেবেও গণ্য হয়ে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট সরদার আসিফ আলী জারদারিও তার বার্তায় কাশ্মীরি জনগণের আন্দোলনে সে দেশের রাজনৈতিক ও কূটনীতিক সমর্থনের কথা নতুন করে জানান। তবে ভারত প্রতিবছরই পাকিস্তানকে মনে করিয়ে দেয়, জম্মু–কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিল, আছে ও থাকবেও।
বৃহস্পতিবার শাহবাজ শরিফ এ প্রসঙ্গে ভারত–নিয়ন্ত্রিত জম্মু–কাশ্মীরকে ফিলিস্তিনের সঙ্গে তুলনা করেন। ভারত যেসব কাশ্মীরি নেতাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে গণ্য করে, সেই সৈয়দ আলী শাহ গিলানি, বুরহান ওয়ানি, ইয়াসিন মালিক, মিরওয়াইজ ওমর ফারুক, আসিয়া আন্দ্রাবিদের নাম পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করেন।
শাহবাজ শরিফ বলেন, কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য সংগ্রাম পুরোপুরি ন্যায্য। তাদের ওপর দমন–পীড়ন চালিয়ে কিছুতেই উপত্যকায় স্থায়ী শান্তি কায়েম করা যাবে না।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, কাশ্মীরি জনতার সংগ্রামে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরসহ সব বাহিনীর প্রধানের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তান কাশ্মীরিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করলেও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রবাসী কাশ্মীরি জনতা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। ওই সব সমাবেশে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করার দাবিতে স্লোগানও উঠেছে।
যুক্তরাজ্য, বেলজিয়ামসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাকিস্তানি দূতাবাসের সামনে প্রবাসী কাশ্মীরিরা বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, ইসলামাবাদ রাজনৈতিক স্বার্থে বছরের পর বছর ধরে কাশ্মীরে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এই ছায়াযুদ্ধের বলি হয়েছেন লক্ষাধিক কাশ্মীরি মানুষ। পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়েও অনেকে সরব হন।