মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর (ডিএনআই) বা জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন জে ক্লেটন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মার্কিন সিনেটে ৫১-৪৭ ভোটের ব্যবধানে তার এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়। তিনি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ডিএনআই বিল পুল্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পদে আবাসন কর্মকর্তা বিল পুল্টেকে বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু গোয়েন্দা কার্যক্রমে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা এবং নিজের পদ ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের চেষ্টার অভিযোগে তাকে নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়। এছাড়া পুল্টের নির্দেশনায় গোয়েন্দা বিভাগ থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনাও উভয় দলের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দেয়। ফলে ট্রাম্প বাধ্য হয়ে জে ক্লেটনকে এই পদে মনোনীত করেন।
কে এই জে ক্লেটন?
জে ক্লেটন নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের সাবেক মার্কিন অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার মামলাসহ বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল মামলার সফল তত্ত্বাবধানের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ক্লেটনের নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লেখেন, ‘জে সর্বতোভাবে অসাধারণ এবং পরিচালক হিসেবে তিনি চমৎকার একটি কাজ করবেন!’
সিনেট শুনানি ও ডেমোক্র্যাটদের উদ্বেগ প্রাথমিকভাবে ডেমোক্র্যাটরা বিল পুল্টের চেয়ে জে ক্লেটনকে অধিক গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিল। তবে সিনেটের শুনানিকালে কিছু মতানৈক্য দেখা দেয়। বিশেষ করে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় প্রসঙ্গে তাকে বারবার প্রশ্ন করা হলে ক্লেটন সতর্কতার সঙ্গে উত্তর দেন। তিনি জানান, বাইডেনকে তিনি বিজয়ী হিসেবে ‘স্বীকৃতি’ দিয়েছেন এবং তিনি কোনো ‘নির্বাচন অস্বীকারকারী নন’।
তবে সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস-চেয়ার ও ডেমোক্র্যাট নেতা মার্ক ওয়ার্নার ক্লেটনের রাজনৈতিক চাপের মুখে অবিচল থাকার সক্ষমতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা সম্প্রদায় সাম্প্রতিক সময়ের চেয়ে আরও স্থির একটি নেতৃত্বের যোগ্য।’
ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভেইল্যান্স অ্যাক্ট’ (ফিসা) আইনের ভবিষ্যৎ বিশ্লেষকদের ধারণা, ক্লেটনের এই চূড়ান্ত নিয়োগ মার্কিন কংগ্রেসে ফিসা-র বিতর্কিত ৭০২ ধারা নিয়ে আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করবে। এই আইনের অধীনে মার্কিন সরকার কোনো ব্যক্তিগত পরোয়ানা ছাড়াই বিদেশে অবস্থানরত বিদেশিদের যোগাযোগ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই এই আইনটি নবায়নের জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
সূত্র: বিবিসি