কৃষক, শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিয়ে জোট গঠনের লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার কৃষক নেতা রাকেশ তিকাইতের সঙ্গে বৈঠক করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
বৈঠকের পর সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা আশা প্রকাশ করে বলেন, সব পক্ষ মিলে ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলবে’।
বৈঠকে আশুতোষ ও রাকেশ ছাড়াও সিজেপির অন্যান্য শীর্ষ নেতা ও ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের (বিকেইউ) সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ইন্ডিয়া টুডের আজ বুধবারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিজেপি বলছে, কৃষক, শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ বলেন, তাদের সংগঠন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর জোট গঠনের আশা করছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, আমাদের কৃষক ভাইয়েরা এবং দেশের ছাত্র-তরুণেরা মোদি সরকারকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরতে একসঙ্গে কাজ করবে।’
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে সিজেপির টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন স্থগিত করার কয়েকদিনের মাথায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সিজেপি এখন শিক্ষাসংক্রান্ত দাবির পাশাপাশি কৃষক ও তরুণদের প্রভাবিত করে এমন বিষয়গুলোকে যুক্ত করে তাদের আন্দোলনের পরিসর আরও বাড়াতে চাইছে।
সিজেপির অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনের সময় কেন্দ্র এবং কয়েকটি রাজ্য সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
তাদের দাবি, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এখনও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে; অন্যদিকে রাজস্থানে এখনও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারে রাকেশ তিকাইতের সমর্থন চেয়েছেন সিজেপি নেতারা।
সিজেপি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কৃষক সংগঠন ও যুব সংগঠনের সঙ্গে মিলে তারা দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তুলবে।
দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে একাধিকবার সেখানে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন রাকেশ।
তিন দফা দাবি আদায়ে গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে সিজেপির নেতৃত্বে সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রায় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে দিল্লি পুলিশ। চলে ব্যাপক লাঠিচার্জ।
এরপর এই আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে গত শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পাশাপাশি দাবি অনুযায়ী মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মঘাতী ২০ জন শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় মোদি সরকার।
তবে চারদিন পার হলেও এখন পর্যন্ত তা রক্ষা করা হয়নি। উল্টো এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে দাবি আদায়ে ফের দেশব্যাপী আন্দোলন শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিজেপি। এরই অংশ হিসেবে কৃষক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে তারা।