রয়টার্স এক্সক্লুসিভ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীন থেকে কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রথম চালান পেতে যাচ্ছে ইরান।
চুক্তির বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে আজ বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের সামরিক ঘাঁটি এবং কৌশলগত অবকাঠামো সুরক্ষায় বেশ কিছু ঘাটতি প্রকাশ্যে আসে।
এরপর স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে তেহরানের নেওয়া বড় পদক্ষেপগুলোর একটি হলো ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই সরঞ্জাম ক্রয়।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই চুক্তির অধীনে ৩০০ থেকে ৪০০টি কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে চীন নির্মিত কিউডব্লিউ-১২ এবং এফএন-১৬ ক্ষেপণাস্ত্র।
সূত্রগুলোর দাবি, হংকংভিত্তিক কোম্পানি ঝংচিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইরান ও চীনা সরবরাহকারীর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ ইরানের
বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চীন ধারাবাহিকভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাত বন্ধে ভূমিকা পালন করে আসছে।’
এছাড়া ঝংচিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের মূল প্রতিষ্ঠান বেইজিংভিত্তিক ঝং চিং বাও শাং গ্রুপের কাছে গতকাল মঙ্গলবার ইমেইলে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।
কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত নানা স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে তেহরানও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে পাল্টা হামলা চালায়।
এমন অবস্থায় ইরানের দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি হয়ে পড়েছে।
উন্নত যুদ্ধবিমান এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রের বিরুদ্ধে দেশের স্থায়ী সামরিক ও কৌশলগত স্থানগুলোর সুরক্ষা দেওয়া কতটা চ্যালেঞ্জিং, এই সংঘাত তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
গত শনিবার ওয়াশিংটন হঠাৎ করে ইরানে তাদের দুই সপ্তাহ ধরে চলমান বোমাবর্ষণ স্থগিত করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত নিরসনে আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের হামলা শুরু হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে পশ্চিম চীনের উরুমকি থেকে আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পাঠানো হবে। এরপর পাকিস্তান হয়ে ইরানে পৌঁছাবে। তবে পাকিস্তান থেকে সেগুলো আকাশপথে নাকি সড়কপথে নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করেনি সূত্রগুলো।
এদিকে পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘চীন থেকে পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র সরবরাহের যেকোনো দাবি সম্পূর্ণ মনগড়া ও মিথ্যা।’
এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও।