ভারতের আসাম রাজ্যের শিবসাগর ও চরাইদেও জেলায় ভয়াবহ বন্যায় নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শিবসাগরের নাজিরা শহরে একটি বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মায়ের সঙ্গে সারারাত গাছে আশ্রয় নেওয়া এক স্কুলছাত্র থেকে শুরু করে বাড়ির ছাদে ঠাঁই নেওয়া অসংখ্য পরিবার—চারদিকে এখন শুধু অসহায় মানুষের গল্প।
টাইমস অব ইন্ডিয়া আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, প্রতিবেশী নাগাল্যান্ডের পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা প্রবল ঢলে সৃষ্ট এই বন্যায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম।
এর মধ্যে নাজিরা থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে হুলাং কাটনি গ্রামের এক কিশোরের একটি ভিডিও গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়; যা এখন আসামে দুর্যোগের ভয়াবহতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ভিডিওতে ওই কিশোরকে বলতে শোনা যায়, ‘শুনুন, আমাদের খাওয়ার কিছু নেই। আমরা গাছের পাতা খেয়ে আছি।’
হাতে একটি পাতা ধরে সে দাবি করে, সেটিই তারা খেতে যাচ্ছেন।
ভিডিওতে ওই কিশোরের মা ও পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকে একই গাছের ডালে বসে থাকতে দেখা যায়। তারা জানান, পুরো রাতই গাছের ওপর কাটিয়েছেন।
তাদের একজন বলেন, ‘আমরা অসুস্থ হয়ে পড়েছি।’ আরেকজন বলেন, ‘আমাদের বাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তাই বৃষ্টির মধ্যে সারারাত গাছের ওপর থাকতে হয়।’
ভিডিওতে দেখা যায়, বন্যার পানি বাড়ির টিনের ছাদ ছুঁইছুঁই করছে। আশপাশের পুরো এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
নাজিরার সাবেক বিধায়ক ও কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা দেবব্রত সাইকিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ ও ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ফেসবুকে কিশোরের ভিডিওটি শেয়ার করে কংগ্রেসের এই নেতা একটি পোস্ট দিয়েছেন। তাতে তিনি আসাম সরকার ও জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, হুলাং কাটনি গ্রামের ওই পরিবারকে উদ্ধারে অবিলম্বে যেন সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
তিনি লেখেন, ‘পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ছে। ঘরবাড়ির ছাদ স্পর্শ করতে যাচ্ছে। এতে আটকে পড়া মানুষের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে।
‘আমি আসাম সরকার, জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগকে দেরি না করে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর আহ্বান জানাচ্ছি।’
সাইকিয়া জানান, আসামে গত রোববার রাত থেকে খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও নিরাপদ আশ্রয় ছাড়া শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থ ব্যক্তিসহ বহু পরিবার বাড়ির ছাদে ও গাছের ডালে কোনোভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে।